ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার বনভূমিতে অভয়ারণ্যের ভাবনা - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

শুক্রবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২৫

ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার বনভূমিতে অভয়ারণ্যের ভাবনা

ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার বনভূমিতে অভয়ারণ্যের ভাবনা

ঝাড়গ্ৰাম: ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায় বিস্তীর্ণ জঙ্গলকে অভয়ারণ্য করার ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। বনমন্ত্রী বীরবাহা হাঁসদা বলেন, বেলপাহাড়ী ও পার্শ্ববর্তী জেলার জঙ্গলে বাঘ, হরিণ, ভাল্লুক ও অন্যান্য বন্যপ্রাণীর দেখা মিলছে। এইসব জঙ্গলে বন্যপ্রাণীর প্রকৃত সংখ্যা জানার জন্য সমীক্ষা শুরু হয়েছে। ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া ও বাঁকুড়ার জঙ্গল এলাকাকে অভয়ারণ্য করা যায় কিনা তা নিয়ে চিন্তাভাবনা চলছে। সমীক্ষার রিপোর্ট ইতিবাচক হলে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের তরফে জঙ্গল এলাকায় বন্য পশুর সংখ্যা জানতে সমীক্ষা শুরু হয়েছে। 

গত বছর ডিসেম্বর মাসে বাঘিনী জিনাত বেলপাহাড়ীর কাঁকড়াঝোর ও কটুচুয়ার জঙ্গলে ঢুকে পড়েছিল। তারপর থেকে জঙ্গল এলাকায় ধারাবাহিকভাবে বাঘের পায়ের ছাপ পাওয়া যাচ্ছে। ভুলাভেদা রেঞ্জের জোড়ামের জঙ্গলে দু’ দিন আগে ভাল্লুকের দেখা পাওয়া গিয়েছে। মনিয়ারডি এলাকায় জঙ্গলের একটি চিতল হরিণ ঢুকে পড়েছিল। রাজ্যের তিন জেলা ও পার্শ্ববর্তী রাজ্যের জঙ্গল ফের বন্যপ্রাণীদের বিচরণস্থল হয়ে উঠেছে। বনবিভাগের পুরনো তথ্য অনুযায়ী, ঝাড়গ্রামের অরণ্যে দেড়শো বছর আগেও বাঘ, চিতাবাঘ, হায়না, ভাল্লুক, হরিণ, বুনো মোষের দেখা মিলত। ১৮৫০ সাল থেকে ব্রিটিশ সরকার হিংস্র বন্যপ্রাণীদের শিকার করার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করে। শুধুমাত্র ১৮৬৭-৬৯ সালের মধ্যে ৯টি বাঘ, ৮টি চিতাবাঘ, ১৫টি ভাল্লুক ও ২টি হায়না মারার তথ্য পাওয়া যায়। নির্বিচারে বন্যপ্রাণী নিধনের ফলে ঝাড়গ্রামের জঙ্গল থেকে বাঘ, চিতাবাঘ, ভাল্লুক হারিয়ে যায়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর জঙ্গলের বন্য পশুপাখি মারা নিষিদ্ধ করা হয়। গত শতকের সাত-আটের দশকে চোরা কারবারিরা নির্বিচারে গাছ কাটায় জঙ্গলের ঘনত্ব কমে যায়। বেলপাহাড়ী, বাঁশপাহাড়ী, ঝাড়গ্রাম, লোধাশুলি, মানিকপাড়ার মতো বনাঞ্চলে প্রতি হেক্টর বনভূমিতে শালগাছের গড় সংখ্যাটা  কমে ৫০ থেকে ১০০-র মধ্যে দাঁড়ায়। ঝাড়গ্রাম বনদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী ২০১৫ সালে ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের ১২টি রেঞ্জে প্রতি হেক্টর বনভূমিতে শাল গাছের সংখ্যা ছিল তিনশোর কাছাকছি। বন্যপ্রাণীদের জঙ্গলে ফেরার প্রাথমিক কারণ এটাই  মনে করা হচ্ছে। রাজ্যে তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় আসার পর ২০১৬ সালে জঙ্গল এলাকাকে পৃথক দেখভালের লক্ষ্যে বন্যপ্রাণ (দক্ষিণ) শাখা গড়তে সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের তরফে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে তৎপরতা শুরু হয়েছে। অভয়ারণ্য গড়ে তোলার বিষয়টিও সামনে এসেছে। ঝাড়গ্রাম বন বিভাগের প্রাক্তন কর্তা সমীর মজুমদার বলেন, ঝাড়গ্রাম, বাঁকুড়া ও পুরুলিয়ায়র জঙ্গল বন্য পশুপাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল হয়ে উঠতে পারে। তবে জঙ্গলে আগুন লাগানো আগে ঠেকাতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন