নয়াদিল্লি: লোকেশ রাহুলের সঙ্গে যশপ্রীত বুমরাহর দ্বৈরথ। রবিবার সন্ধ্যায় দিল্লি ক্যাপিটালস ও মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের লড়াইয়ে প্রধান আকর্ষণ এটাই। চোট সারিয়ে দীর্ঘদিন পর মাঠে ফিরেছেন ‘বুমবুম’। প্রত্যাবর্তনের মঞ্চে উইকেট না পেলেও বেশি রান খরচ করেননি তিনি। চার ওভারে দেন মোটে ২৯। অন্যদিকে, রাহুল তিন ইনিংসে করে ফেলেছেন ১৮৫ রান। গড় ৯২.৫০, স্ট্রাইক রেট ১৬৯.৭২। গত ম্যাচেই চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে ৯৩ রানে নট আউট ছিলেন তিনি। দলকে জিতিয়ে তাঁর উচ্ছ্বাস প্রকাশের ভঙ্গিতে ফুটে উঠেছিল ব্যতিক্রমী আগ্রাসন। ফর্মের তুঙ্গে থাকা রাহুলকে দ্রুত ফেরানোর জন্য মুম্বই অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়ার সেরা বাজি বুমরাহই।
এই ম্যাচের বড় আকর্ষণ রোহিত শর্মাও। একেবারেই ছন্দে নেই তিনি। চার ইনিংসে করেছেন মাত্র ৩৮। গড় দশেরও নীচে। কোটিপতি লিগের চলতি আসরে নীতা আম্বানির ফ্র্যাঞ্চাইজির দুরাবস্থার বড় কারণ হিটম্যানের ফর্মে না থাকা। সম্প্রতি, বাঁ-হাতি স্পিনার ও লেগস্পিনারের বিরুদ্ধে অস্বস্তিতে দেখিয়েছে রোহিতকে। তাই শুরুতেই বল করতে আসতে পারেন দিল্লি ক্যাপ্টেন অক্ষর প্যাটেল। তাঁর সঙ্গে কাঁধ মিলিয়ে আক্রমণ শানাতে প্রস্তুত চায়নাম্যান কুলদীপ যাদব ও লেগস্পিনার বিপরাজ নিগমও।
পাঁচ ম্যাচের চারটিতেই হেরেছে মুম্বই। পকেটে মাত্র ২ পয়েন্ট। শুধু রোহিত নন, দাপট উধাও সূর্যকুমার যাদব, তিলক ভার্মার ব্যাটেও। তাঁরা যে একেবারে রানের মধ্যে নেই, তা নয়। কিন্তু ম্যাচ-জেতানো পারফরম্যান্স নেই সূর্য-তিলকের। মুম্বইয়ের বোলিংয়েও তীক্ষ্ণতার অভাব। ১০ উইকেট নিয়ে সফলতম বোলার হার্দিক। বাঁ-হাতি পেসার অশ্বিনী কুমার, বাঁ-হাতি স্পিনার ভিগনেশ পুথুরও উইকেট নিয়েছেন। কিন্তু ট্রেন্ট বোল্ট ও দীপক চাহার নতুন বলে নিয়মিতভাবে আঘাত হানতে পারেননি বিপক্ষ ইনিংসে। বুমরাহর উপস্থিতি অবশ্য ধার বাড়াচ্ছে বোলিংয়ের।
দিল্লির ব্যাটিং নির্ভর করছে প্রধানত রাহুলের উপর। ফাফ ডু’প্লেসি, জেক ফ্রেজার-ম্যাকগার্ক, ট্রিস্টান স্টাবস, আশুতোষ শর্মা, অভিষেক পোড়েল, অক্ষরদের উপস্থিতিতে গভীরতাও যথেষ্ট। মিচেল স্টার্ক, মুকেশ কুমার, মোহিত শর্মা— পেস আক্রমণও তীক্ষ্ণ। রোহিত বনাম স্টার্ক, উপভোগ্য লড়াইয়ের অপেক্ষায় ক্রিকেটপ্রেমীরা। ম্যাচটা হবে ফিরোজ শাহ কোটলায়। এবারের মরশুমে দিল্লি প্রথম দুটো হোম ম্যাচ খেলেছিল বিশাখাপত্তনমে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন