দক্ষিণ ২৪ পরগনা: বুধবারের পর বৃহস্পতিবারও মহিলা কামরা বৃদ্ধির প্রতিবাদে ভোর থেকে শিয়ালদহ দক্ষিণ শাখায় রেল অবরোধ করল নিত্যযাত্রীদের একাংশ। ডায়মন্ডহারবার লাইনে মগরাহাট, উত্তর রাধানগর, হোটর ও ধামুয়া স্টেশনে যাত্রী বিক্ষোভের জেরে আটকে পড়ে একের পর এক লোকাল ট্রেন। লাইনের উপর কাতারে কাতারে মানুষ দাঁড়িয়ে পড়েন, যার জন্য আপ এবং ডাউন লাইনে দীর্ঘক্ষণ বন্ধ ছিল ট্রেন চলাচল। অবরোধের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রেল পুলিসের আধিকারিকরা। দফায় দফায় আন্দোলনকারীদের সঙ্গে চলে আলোচনা। তাঁদের দাবি, মহিলা কামরা যেমন বৃদ্ধি করা হচ্ছে তার সঙ্গে সাধারণ কম্পার্টমেন্ট বাড়াতে হবে। কারণ সকালের দিকে এমনিতেই ভিড় ঠেলে ট্রেনে উঠতে সমস্যা হয়। তার উপর যদি এখন কামরা কমে যায় তাহলে অনেকেই উঠতে পারবেন না। প্রসঙ্গত, বুধবার লক্ষ্মীকান্তপুর লাইনে দফায় দফায় রেল অবরোধ হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার
প্রথমে সকাল ৬টা ২৬ মিনিটে উত্তর রাধানগর হল্ট স্টেশনে অবরোধ শুরু হয়।
৯টা ১৬ মিনিট পর্যন্ত চলে বিক্ষোভ। তারপর রেল আধিকারিক ও পুলিসের
মধ্যস্থতায় অবরোধ উঠে যায়। পাশাপাশি হোটর স্টেশনের কাছে একটি লেভেল
ক্রসিংয়ের মুখে ৮টা ৪০ মিনিট থেকে ৯টা ১৭ মিনিট পর্যন্ত অবরোধ চলে। ধামুয়া
স্টেশনে তারের উপর কলাপাতা ফেলে দিয়েছিলেন যাত্রীদের একাংশ। যার জন্য
ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। আন্দোলনের জেরে চরম ভোগান্তিতে পড়তে
হয়েছে অফিস যাত্রীদের। কলকাতায় আসার জন্য যাঁরা বিভিন্ন স্টেশন থেকে
ট্রেন ধরেছিলেন তাঁরা অনেকেই গন্তব্যে দেরিতে পৌঁছন। তবে এর মধ্যে অনেক
যাত্রী দুর্ভোগের কারণে বাড়ি ফিরে যান। অবশেষে ৯টা ৪২ মিনিট থেকে ট্রেন
চলাচল শুরু হয়।
সপ্তাহের দু’দিন যেভাবে এই অবরোধ কর্মসূচি নেওয়া
হয়েছিল, তাতে যাত্রীদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এদিনের অবরোধের
ফলে আপ ও ডাউন মিলিয়ে ১৫টি ট্রেন বাতিল করতে হয়েছে রেলকে। এমন আন্দোলন
কোনওভাবেই সমর্থনযোগ্য নয় বলে কড়াভাবে জানিয়েছে তারা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন