কলকাতা: পরীক্ষাবিধিতে লেখা ছিল, তিনটি বিষয়ের মধ্যে একটিতে ৩০ শতাংশ নম্বর পেলেই উত্তীর্ণ হিসেবে ধরা হবে। অথচ সঠিক নিয়মটি হল, চারটি বিষয়ের মধ্যে তিনটিতে ৩০ শতাংশ করে নম্বর পেলে তবে পাশ করানো হবে। উচ্চ মাধ্যমিকের সেমেস্টার পদ্ধতির পরীক্ষাবিধিতে এই বড়সড় একটি ভুল এতদিন রয়ে গিয়েছিল। এক ছাত্রের মামলার জেরে তা নজরে আসায় শনিবার তাতে বদল এনেছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ।
গত বছর উচ্চ মাধ্যমিকে বড়সড় রদবদল হয়েছে। চারটি সেমেস্টারে ভাগ
হয়েছে একাদশ-দ্বাদশের পঠনপাঠন ও পরীক্ষা। সিলেবাসেও এসেছে আমূল পরিবর্তন।
ফেল করলে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। ফলে পরীক্ষাবিধিতে
বদল আনে সংসদ। তাতেই রয়ে গিয়েছিল এই ভুল। সংসদের এক আধিকারিকের বক্তব্য,
এক বছর আগে তৈরি এই শিক্ষাবিধিতে থাকা বড়সড় ভুলটি তাঁদের চোখ তো বটেই
বিকাশ ভবনের ল সেকশনের আধিকারিকদেরও চোখ এড়িয়ে গিয়েছে। কীভাবে তা হল, ভেবে
কূলকিনারা পাচ্ছেন না তাঁরা।
নিয়ম অনুযায়ী, বাংলা এবং ইংরেজি অর্থাৎ
ভাষাপত্রগুলিতে পাশ করা আবশ্যিক। এছাড়াও চারটি আবশ্যিক ইলেকটিভ বিষয়ের
তিনটিতে পাশ করতে হবে। এদিকে দ্বিতীয় সেমেস্টারে, অর্থাৎ একাদশের বছর শেষের
পরীক্ষায় এক ছাত্র মাত্র একটি ইলেকটিভ বিষয়ে ৩০ শতাংশ নম্বর পায়। তাকে
স্কুল উত্তীর্ণ করতে না চাওয়ায় সংসদকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে আইনি পদক্ষেপ করে
ছাত্রটি। তখনই সংসদের চোখে ধরা পড়ে এই বিরাট ভুলটি। এই ভুল থেকে গেলে কী
হতো? তৃতীয় এবং চতুর্থ সেমেস্টার নিয়েই মূলত উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা।
ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, উচ্চ মাধ্যমিকে পাশ করা নিয়ে এরকম জটিলতা তৈরি
হলে আইনি লড়াই আরও অনেকদূর গড়াতে পারত। এমনিতেই বইপ্রকাশে দেরি, বারবার
সিলেবাস পরিবর্তন, তৃতীয় সেমেস্টারে সংস্কৃতের সিলেবাস পরিবর্তন নিয়ে
বিতর্কের মুখে পড়েছে তারা। তবে সবথেকে বড় বিতর্ক তৈরি হতো উচ্চ মাধ্যমিকের
চূড়ান্ত সেমেস্টার পর্যন্ত এই বিধি থেকে গেলে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন