নয়াদিল্লি: একের পর এক বিল পাশ হয়েছে বিধানসভায়। কিন্তু তা আইনে পরিণত করা যাচ্ছে না। কারণ, .গুলি আটকে রেখেছে রাজভবন। তামিলনাড়ু থেকে বাংলা—সর্বত্র রাজ্যপালের এই ভূমিকায় ক্ষোভ চরমে। বিধানসভায় পাশ হওয়া ১০টি বিল এভাবে আটকে রয়েছে এম কে স্ট্যালিনের রাজ্যে। সেই ঘটনায় এবার তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল আর এন রবির ভূমিকার কড়া সমালোচনা করল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি জে বি পার্দিওয়ালা ও বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চের তোপ, রাজ্যপালের এহেন কর্মকাণ্ড ‘অবৈধ’ ও ‘স্বেচ্ছাচারী’। এদিন শুনানিতে দুই বিচারপতি সাফ জানিয়েছেন, বিল আটকানোর এক্তিয়ার নেই রাজ্যপালের। তা সত্ত্বেও রাজ্যপাল যেভাবে রাষ্ট্রপতির বিবেচনার জন্য ১০টি বিল রেখে দিয়েছিলেন, তা সংবিধানের পরিপন্থী। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়কে ‘ঐতিহাসিক’ বলে অভিহিত করেছেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন। তিনি বলেন, ‘এই রায় শুধু তামিলনাড়ু নয়, দেশের সমস্ত রাজ্যের জয়।’ বাস্তবিকই এই রায়ে আশার আলো দেখছে বাংলা।
অবিজেপি রাজ্যগুলিতে রাজভবন ও সরকারের সংঘাত অবশ্য নতুন কিছু নয়। বর্তমান উপ রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকার বাংলার রাজ্যপাল থাকাকালীন একই অভিযোগ উঠেছিল। রাজভবনে সি ভি আনন্দ বোস আসার পরও সেই ছবি বদলায়নি। এই মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পাশ হওয়া ২৩টি বিল আটকে রয়েছে রাজ্যপালের কাছে। তার মধ্যে বেশ কয়েকটি পড়ে রয়েছে সেই ২০১৬ সাল থেকে। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর বিলগুলির ‘উজ্জ্বল’ ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘২০১৬ থেকে ২০২৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত বিধানসভায় পাশ হওয়া ২৩টি বিল রাজভবনে পাঠানো হয়েছিল। তার মধ্যে ধর্ষণ বিরোধী অপরাজিতা বিল, গণপিটুনি প্রতিরোধ বিল, হাওড়া পুরসভা সংক্রান্ত বিলও রয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের এই রায়ের পর রাজ্যপাল ওই ২৩টি বিল নিয়ে দ্রুত সদর্থক পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন বলে আমরা আশাবাদী।’

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন