কলকাতা: জমি-বাড়ি কেনার পর সাধারণ মানুষ প্রথম কখন বিপাকে পড়ে? মিউটেশনের সময়। তখন তারা আবিষ্কার করে, জমির খাজনা মেটানো হয়নি। খাজনা বকেয়া থাকলে রেজিস্ট্রেশনের সময় যেহেতু কোনও সমস্যা হয় না, তাই অনেক বিক্রেতাই বিষয়টা বেমালুম চেপে যান। পরে মাশুল গুনতে হয় ক্রেতাকে। আর আগেভাগে সেই সম্পত্তির খুঁটিনাটি জানতে হলে ভূমি সংস্কার দপ্তরে ছুটতে ছুটতে জুতোর সুকতলা ক্ষয়ে যাওয়ার দশা।
ফাঁকফোঁকর জানা না থাকলে তো আরও বিপত্তি। তখন দালাল চক্রের হাতে ধরা দেওয়া ছাড়া গতি নেই। এবার মুক্তি সেই ‘ফাঁস’ থেকে। রেজিস্ট্রির আগেই এবার এক ক্লিকে জেনে নেওয়া যাবে বকেয়া খাজনা এবং পরচা অনুযায়ী জমির আসল মালিকের নাম। ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের পোর্টালে ঢুকে জমির খতিয়ান নম্বর সহ অন্যান্য বিবরণ টাইপ করলে কম্পিউটার বা মোবাইলের স্ক্রিনে ভেসে উঠবে জমির খাজনা সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য। আর শুধু ব্যক্তিগত বাড়ির ক্ষেত্রে নয়, বাণিজ্যিক প্রয়োজনে চিহ্নিত জমির ক্ষেত্রেও যাবতীয় তথ্য মিলবে পোর্টালে। প্রতি বছর রাজ্যে গড়ে ১৭ থেকে ১৮ লক্ষ জমি-বাড়ির রেজিস্ট্রি হয়ে থাকে।
২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে অনলাইনে খাজনা জমা নেওয়ার ব্যবস্থা চালু করে রাজ্য ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তর। তার কিছু মাস পরেই হাতে হাতে বা অফলাইনে খাজনা জমা নেওয়া সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়। শুধুমাত্র দপ্তরের পোর্টালে ঢুকেই এখন খাজনা জমা করার নিয়ম রাজ্যে। তাই বিগত বছরগুলিতে জমা পড়া খাজনার সমস্ত তথ্যই ধরা রয়েছে রাজ্যের ডিজিটাল তথ্য ভাণ্ডারে। কেউ যদি এক-দু’বছরের বছরের খাজনা বাকি রেখে থাকেন, তাহলে তা সহজেই জানা যাবে। আর যদি কেউ তার থেকে বেশি সময়ের জন্য বকেয়া না মিটিয়ে থাকেন, তাহলেও বুঝে নিতে হবে, আগের দু’বছরে সংশ্লিষ্ট জমির জন্য একটি টাকাও জমা পড়েনি। এভাবেই ক্রেতাদের সতর্ক করাটা লক্ষ্য নবান্নের।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন