নয়াদিল্লি: আট মাসের মধ্যেই
ছাঁটাই ভারতীয় ক্রিকেট দলের সহকারী কোচ অভিষেক নায়ার। নিউজিল্যান্ডের
বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে টেস্ট সিরিজে ০-৩ হোয়াইটওয়াশ ও অস্ট্রেলিয়ায়
বর্ডার-গাভাসকর ট্রফিতে ভরাডুবিকেই প্রাথমিকভাবে কারণ হিসেবে তুলে ধরা
হয়েছে। তবে তা কতটা সঠিক, ধন্দ থাকছেই। ক্রিকেট মহলের ধারণা,
পারফরম্যান্সের কারণে ছাঁটাই হলে সবার আগে বিদায় করা হতো প্রধান কোচ গৌতম
গম্ভীরকে। কিন্তু তা হয়নি। বিজেপি ঘনিষ্ঠ বলেই কি তিনি বেঁচে গেলেন? আর
বলির পাঁঠা হতে হল অভিষেককে।
সরকারিভাবে বিসিসিআই এই সিদ্ধান্তের কারণ
জানায়নি। সেজন্যই জল্পনা বাড়ছে। ফিসফাস চলছে যে, শৃঙ্খলাভঙ্গের জন্যই ‘আউট’
হলেন অভিষেক। ডনের দেশে ড্রেসিং-রুমের খবর ফাঁস হয়েছিল। সেজন্য সরফরাজ
খানের দিকে উঠেছিল আঙুল। কিন্তু এখন অনেকেই মনে করছেন, সরফরাজ
ড্রেসিং-রুমের কথাবার্তা প্রকাশ্যে আনেননি। হয়তো সেজন্যই কোপ পড়ল অভিষেকের
ঘাড়ে।
অস্ট্রেলিয়া সফরের পরই মুম্বইয়ে এক রিভিউ বৈঠকে কোচ গম্ভীর ও
ক্যাপ্টেন রোহিত শর্মাকে ডাকা হয়েছিল। সেখানে বোর্ডের শীর্ষকর্তারা ছাড়াও
উপস্থিত ছিলেন অজিত আগরকরের নেতৃত্বে জাতীয় নির্বাচকরা। তার ঠিক আগেই নাকি
এক সিনিয়র সাপোর্ট স্টাফ সংশয় প্রকাশ করেছিলেন অভিষেকের যোগ্যতা নিয়ে।
এক্ষেত্রে নাম ভাসছে গম্ভীরের। তিনিই নাকি অভিষেকের বিরুদ্ধে কলকাঠি নাড়েন
বোর্ডের কাছে।
ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ওডিআই এবং টি-২০ সিরিজের
ঠিক আগে টিম ইন্ডিয়ার সঙ্গে কোচ হিসেবে সীতাংশু কোটাককে জুড়ে দেওয়া হয়।
আদতে যা ছিল অভিষেককে একঘরে করে দেওয়া। আবার এক তারকা ক্রিকেটারের সঙ্গে
প্রভাবশালী এক সাপোর্ট স্টাফের লড়াইয়ের বলি হতে হল তাঁকে বলেও খবর ছড়াচ্ছে।
নেপথ্যে যাই ঘটুক, বাস্তব হল ভারতীয় দলের সঙ্গে আর যুক্ত নন অভিষেক। তাঁর
সঙ্গেই ছাঁটাই হলেন ফিল্ডিং কোচ টি দিলীপ এবং স্ট্রেংথ ও কন্ডিশনিং কোচ
সোহম দেশাই। এই পরিস্থিতিতে টিম ইন্ডিয়ার ট্রেনার হিসেবে ফিরছেন
অ্যাড্রিয়ান লে রু। প্রধান কোচ গম্ভীরের সঙ্গে সাপোর্ট স্টাফ হিসেবে থাকছেন
ব্যাটিং কোচ সীতাংশু কোটাক, বোলিং কোচ মর্নি মর্কেল ও সহকারী কোচ রায়ান
টেন দুশখাতে। অনুমান করা হচ্ছে, যে ফিল্ডিং কোচের দায়িত্ব এবার থেকে
দুশখাতেই সামলাবেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন