ব্রিটিশদের হাতে ধ্বংসের মুখে! রেকর্ড কিপারের উদ্যোগেই বাঁচল রবি ঠাকুরের বার্থ সার্টিফিকেট - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

শনিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৫

ব্রিটিশদের হাতে ধ্বংসের মুখে! রেকর্ড কিপারের উদ্যোগেই বাঁচল রবি ঠাকুরের বার্থ সার্টিফিকেট

ব্রিটিশদের হাতে ধ্বংসের মুখে! রেকর্ড কিপারের উদ্যোগেই বাঁচল রবি ঠাকুরের বার্থ সার্টিফিকেট

কলকাতা: বিষয়টা কি সত্যি? রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বার্থ সার্টিফিকেট এবং তাঁর লেখা আবেদনপত্র নাকি ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিল ইংরেজরা! অক্ষরে অক্ষরে সত্যি। তবে বাঙালি এবং ভারতীয়দের পরম সৌভাগ্য, সেটি ধ্বংস হয়নি। এখনও সরকারি মহাফেজখানায় সযত্নে রাখা। চোখে দেখার সুযোগও আছে। 
কয়েকদিন পরই ২৫ বৈশাখ। ১৮৬১ সালের ওই দিনটায় রাত ২টো ২৮ মিনিট ৩৭ সেকেন্ডে জোড়াসাঁকোয় জন্ম নিয়েছিলেন বাঙালির প্রাণের কবি। তাঁর জন্মের শংসাপত্রটিই রাখা আছে কলকাতায় ডিরেক্টরেট অব স্টেট আর্কাইভসে। নয় নয় করে বার্থ সার্টিফিকেটটির বয়স হয়ে গেল ১৪৭ বছর। মোটা-দামি কাগজে তৈরি। ১৪৭ বছরের পুরনো বলে মরচের মতো সময়ের লালচে ছোপ ধরেছে। সে কালের ইংরেজি বয়ানে ছাপার অক্ষরে লেখা বিষয়বস্তু। আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের নাম, জন্মের সাল-তারিখ লেখা হস্তাক্ষরে। সার্টিফিকেটটি দেখলে বাঙালি মাত্রেই চোখ চকচক করবে। আর হাত দিয়ে ছুঁলে শিহরণ। গবেষণার প্রয়োজনে কদাচিৎ সিন্দুক থেকে বেরয়। গবেষকরা দেখার সুযোগ পান। 
জীবনস্মৃতিতে রবীন্দ্রনাথ লিখছেন, ‘মেজদাদা প্রস্তাব করিলেন, আমাকে তিনি বিলাতে লইয়া যাইবেন। পিতৃদেব যখন সম্মতি দিলেন তখন আমার ভাগ্য-বিধাতার এই আর একটি অযাচিত বদান্যতায় আমি বিস্মিত হইয়া উঠিলাম...।’
তখন কতই বা বয়স হবে রবীন্দ্রনাথের? বছর সতেরোর সদ্য যুবক। ১৮৭৮ সালের ১২ই মার্চ বেঙ্গল গভর্নমেন্টের কাছে ‘জন্ম শংসাপত্র’ পেতে আবেদন করলেন। লিখলেন, ‘ইংল্যান্ড যেতে চাই, আইসিএস পরীক্ষায় বসব।’ প্রমাণ হিসেবে নিজের জন্মের কোষ্ঠীও জমা দিলেন। এরপরই জন্ম শংসাপত্র ইস্যু করল ব্রিটিশ সরকার। আবেদনপত্র, বাকি নথি এবং শংসাপত্রের প্রত্যয়িত কপি রেখে দেওয়া হল... কিছুদিন পর ধ্বংস (ডেসট্রয়) করে দেওয়ার জন্য। সত্যি? নোবেলজয়ী বিশ্বখ্যাত কবির জন্মের সার্টিফিকেটও নষ্ট করার জোগাড় হয়েছিল? উত্তর, ‘হ্যাঁ’।  
পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য লেখ্যাগারের ডিরেক্টর প্রোফেসর অতীশ দাশগুপ্তর লেখা এবং দপ্তরের আধিকারিক সুমিত ঘোষের দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়, ব্রিটিশ সরকারের রেকর্ড কিপিং সিস্টেম অনুযায়ী, রবীন্দ্রনাথের আবেদনপত্র এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ‘বি’ প্রসিডিংস বলে উল্লেখ ছিল। প্রসঙ্গত নথি সংরক্ষণের নিয়মানুযায়ী, ‘বি’ প্রসিডিংস রেকর্ডের ঐতিহাসিক গুরুত্ব অপেক্ষাকৃত কম। এবং প্রয়োজনে তা যথাসময়ে ধ্বংস করা হয়। তবে সৌভাগ্যক্রমে রবীন্দ্রনাথের আবেদনপত্রের নথি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের রেকর্ড কিপার ‘কিপ’ করেন বা আর্কাইভ করেন। কেন তিনি তা করেছিলেন, তার যদিও কোনও উল্লেখ কোথাও নেই। ফলে শংসাপত্র, আবেদনপত্র মহাফেজখানায় থেকে যায়।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন