কলকাতা: জিএসটি
রেজিস্ট্রেশনের জন্য আবেদন করলে সর্বাধিক সাতটি কাজের দিনের মধ্যেই তা
মঞ্জুর করতে হবে। অকারণে অপ্রয়োজনীয় নথি চেয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের হেনস্তা
করা যাবে না। সম্প্রতি এই নির্দেশিকা জারি করেছে সেন্ট্রাল বোর্ড অব
ইনডাইরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমস (সিবিআইসি)। তাদের এই নির্দেশিকা ফের
বুঝিয়ে দিল, জিএসটি ব্যবস্থায় অস্বচ্ছতা ও দুর্নীতি এখনও কাটিয়ে ওঠা
যায়নি। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে ব্যবসার পথ সহজ করা বা ইজ অব ডুইং বিজেনেসের
কথা সরকার বললেও ইনস্পেক্টররাজ যে সেই তিমিরেই রয়ে গিয়েছে, তা বোঝাল
কেন্দ্রীয় নির্দেশিকাই।
সিবিআইসি জানিয়েছে, অফিসারদের একাংশ জিএসটি
রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে এমন কিছু নথি চেয়ে বসছেন, যেগুলির কোনও প্রয়োজন
নেই। এমনকী কিছু মনগড়া তথ্য চাওয়া হচ্ছে, যেগুলির দরকার নেই। কী নথি দরকার,
তার তালিকা ফের স্পষ্ট করে নির্দেশিকায় জানিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থাটি। তারা
জানিয়েছে, গোটা প্রক্রিয়া সারতে হবে অনলাইনে। কাগুজে নথি বা ‘হার্ড কপি’
চাওয়ার কোনও জায়গা নেই এক্ষেত্রে।
কোন কোন নথি অনলাইনে দিতে হবে,
নির্দেশিকায় তা স্পষ্ট করে জানিয়েছে সিবিআইসি। উদাহরণ, ব্যবসার ঠিকানার
প্রমাণ দিতে বিদ্যুতের বিল, সম্পত্তি করের রসিদ, পুরসভার নথি, জল করের রসিদ
বা সমগোত্রীয় কোনও সরকারি নথির মধ্যে যেকোনও একটির তথ্য দিলেই হবে।
ভাড়া নেওয়া জায়গা হলে, ঠিকানার প্রমাণের পাশাপাশি ভাড়ার চুক্তির রসিদ দিলেই
হবে। পার্টনারশিপ ব্যবসা হলে তার ডিড সংক্রান্ত তথ্য দিতে হবে। অনেক
ক্ষেত্রেই এরই সঙ্গে ট্রেড লাইসেন্স, এমএসএমই সংস্থা হিসেবে প্রয়োজনীয়
সার্টিফিকেট, কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্যম পোর্টালে নাম নথিভুক্তিকরণ
সংক্রান্ত নথি, শপ এস্টাবলিশমেন্ট সার্টিফিকেটের মতো নানা নথি চাওয়া
হচ্ছে, যার আদৌ কোনও প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছে সিবিআইসি। এমনকী
আবেদনকারীর বসবাসের ঠিকানা চাওয়ারও কোনও প্রয়োজন নেই।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন