ভাটিকান সিটি: তিনি ‘গরিবের পোপ’। প্রান্তিক, নিপীড়িত মানুষের দুঃখকষ্ট তাঁর নজর এড়ায়নি কখনও। দায়িত্বে থাকাকালীন চার্চকে মানুষের অনেক কাছাকাছি নিয়ে এসেছিলেন। পোপ ফ্রান্সিসের প্রসঙ্গ উঠলেই এই কথাগুলো বারবার মনে আসে। শনিবার তাঁর শেষকৃত্যে সেই চিত্রই দেখা গেল। হেভিওয়েটদের পাশাপাশি লাখো মানুষের ভিড় চিরবিদায় জানালো প্রয়াত পোপ ফ্রান্সিসকে। শেষকৃত্যানুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার,ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভোলোদামির জেলেনস্কি সহ আরও অনেক রাষ্ট্রনেতা। একইসঙ্গে শেষবারের মতো তাঁকে চাক্ষুস করতে সেন্ট পিটার্স স্কোয়্যারে ভিড় জমিয়েছিলেন লক্ষ লক্ষ ভক্ত-অনুরাগী। প্রকৃতিও যেন শামিল হয়েছিল এই শেষযাত্রায়। সকাল থেকেই সূর্যের সোনালি আভায় ভরে যায় সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকা চত্বর। অনেকেই বলন, স্বয়ং ঈশ্বর যেন আলো দেখাচ্ছেন তাঁর প্রিয় ভক্তকে।
দীর্ঘ রোগভোগের পর গত সোমবার ৮৮ বছর বয়সে প্রয়াত হন
পোপ ফ্রান্সিস। ২০১৩ সালে প্রথম লাতিন আমেরিকান পোপ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ
করেছিলেন তিনি। এদিন নির্ধারিত সময়ে সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকা থেকে বিশেষ
গাড়িতে পোপের নশ্বর দেহ বাইরে আনা হয়। ততক্ষণে চারিদিকে ভিড় জমিয়েছেন কয়েক
লক্ষ মানুষ। বিভিন্ন রাস্তায় ছিল জায়ান্ট স্ক্রিন। সেখানেও ভিড় ছিল চোখে
পড়ার মতো। রীতি মেনে প্রার্থনার পৌরহিত্য করেন কার্ডিনাল জিওভান্নি
বাতিস্তা রে। স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘ফ্রান্সিস ছিলেন সাধারণ মানুষের
পোপ। খোলামনে সবাইকে আপন করে নিয়েছেন সবসময়। চার্চ সবার আশ্রয়স্থল। এটাই
ছিল তাঁর বিশ্বাস।’ প্রার্থনা শেষে ধীরে ধীরে সেন্ট মেরি মেজর ব্যাসিলিকার
উদ্দেশে রওনা দেন ক্যাথলিক চার্চের সদ্য প্রয়াত প্রধান। রাস্তার দু’ধারে
তখন কমপক্ষে তিন লক্ষ মানুষ। ফ্রান্সিসের শেষ ইচ্ছে অনুযায়ী, ভার্জিন মেরির
এই উপাসনাস্থলে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়। রোমের মূল রেল স্টেশনের কাছে
সাধারণ সমাধি। উপরে লেখা, ‘ফ্রান্সিকাস’।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন