নয়াদিল্লি:
সরকারি জমি কোনও নির্দিষ্ট ধর্মের নয়। ভুল করে হোক বা জবরদস্তি, সরকারি
জমিকে কোনওভাবেই ওয়াকফের সম্পত্তি বলে দাবি করা যায় না। ওয়াকফ আইন
সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্টে হলফনামা জমা দিয়ে একথা জানাল মোদি সরকার।
আগামী ৫ মে পরবর্তী শুনানি। তার আগে সর্বোচ্চ আদালতের নির্দেশেই হলফনামা
আকারে নিজেদের বক্তব্য জমা দিল সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রক। ১ হাজার ৩৩২ পাতার
হলফনামায় কেন্দ্রের সাফ দাবি, ওয়াকফ আইন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে
বিরোধীরা। নতুন আইনে কোনও ধর্মের উপর কোনও হস্তক্ষেপ করা হয়নি। বরং
ধর্মনিরপেক্ষ মনোভাবেই এই আইন। মোদি সরকারের পক্ষে হলফনামায় সই করেছেন
সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রকের যুগ্মসচিব শেরশাহ সি সইক মইনুদ্দিন।
উল্লেখযোগ্য
বিষয় হল, মোদি জমানাতেই গোটা দেশে ব্যাপক হারে ওয়াকফ সম্পত্তির পরিমাণ
বেড়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। একটি তালিকা জমা দেওয়া হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে।
তা থেকে জানা গিয়েছে, ২০১৩ সালে গোটা দেশে ওয়াকফ সম্পত্তির সংখ্যা ছিল ২
লক্ষ ৭ হাজার ৩৯৪টি। মোট জমির পরিমাণ ১৮ লক্ষ ২৯ হাজার ১৩৬ একর। ২০২৫ সালে
এসে ওয়াকফ সম্পত্তির সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮ লক্ষ ৭২ হাজার ৮৭০টি। মোট জমির
পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৯ লক্ষ ২ হাজার ৪৭৬ একরে।
সুপ্রিম কোর্টে জমা
দেওয়া সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রকের নথি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ওয়াকফ বোর্ডের
আওতায় রয়েছে ৮২ হাজার ১৫০ একর জমি। সম্পত্তির সংখ্যা ৮০ হাজার ৮০৮টি। ২০১৩
সালে এই সংখ্যাটি ছিল ১৭ হাজার ৯৪৬। আর জমি ছিল মোট ৩৫ হাজার ৪০৭ একর।
একইভাবে মোদি রাজ্য গুজরাতেও ব্যাপক বেড়েছে ওয়াকফ সম্পত্তি। ২০১৩ সালে ৩
হাজার ৭৪টি সম্পত্তি এখন বেড়ে ৩৯ হাজার ৯৪০টি। ২০ হাজার ৯৮০ একর জমি এখন
গিয়ে দাঁড়িয়েছে ৬৪ হাজার ৬৫ একরে। গত ১২ বছরে গোটা দেশে ওয়াকফ সম্পত্তি
এলাকা ১১৪.৪ শতাংশ বেড়েছে বলেই সর্বোচ্চ আদালতে জানিয়েছে মোদি সরকার। তাই
কেন্দ্রের দাবি, ওয়াকফ সম্পত্তির সঠিক রেজিস্ট্রেশন এবং ওয়াকফ
কাউন্সিল-বোর্ডের কাজকর্ম স্বচ্ছতার সঙ্গে চালাতেই এই নতুন আইন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন