ওয়াশিংটন: নতুন শুল্ক নীতি নিয়ে হঠাত্ই সুর নরম করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ভারতীয় সময় বুধবার রাতে তিনি ঘোষণা করেন, এখনও পর্যন্ত যে সব দেশের বিরুদ্ধে তিনি পাল্টা শুল্ক (রেসিপ্রোক্যাল ট্যাক্স) চাপিয়েছেন, তা তিন মাস বা ৯০ দিনের জন্য স্থগিত থাকছে। ৭৫টির বেশি দেশের ক্ষেত্রে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। এই সময়কালে শুধুমাত্র ১০ শতাংশ হারে পাল্টা শুল্ক ধার্য থাকবে। তবে চীনকে কোনও ছাড়ই দেওয়া হয়নি। উল্টে চীনের বিরুদ্ধে আরও কড়া মনোভাব নিয়েছেন তিনি।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, চীনের পণ্যের উপর এখন থেকে ১২৫ শতাংশ হারে শুল্ক ধার্য হবে। এর আগে আমেরিকার বাজারে চীনা পণ্যের আমদানি শুল্ক বেড়ে ১০৪ শতাংশ করা হয়েছিল। এদিন নিজের ‘ট্রুথ’ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে ট্রাম্প লেখেন, ৭৫টিরও বেশি দেশ আমেরিকার বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধিদের সঙ্গে শুল্ক নীতি ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেছে। এই দেশগুলি আমেরিকার সঙ্গে সংঘাতের পথে হাঁটেনি। তাই তিনি এই দেশগুলির জন্য আপাতত শুল্ক নীতি কার্যকর স্থগিত রাখছেন। একইসঙ্গে তিনি লিখেছেন, যেহেতু চীন বিশ্ব বাজারের প্রতি সম্মান জানায়নি, তাই চীনের উপর ১২৫ শতাংশ কর চাপানো হচ্ছে। চীন একদিন নিজেদের ভুল বুঝতে পারবে। ট্রাম্পের শুল্ক নীতি ঘিরে আমেরিকার অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। টালমাটাল মার্কিন শেয়ার বাজারও। তাই সব মিলিয়ে ট্রাম্প পিছু হটতেই বাধ্য হলেন বলে মনে করছে বাণিজ্য মহল।
ট্রাম্পের এই বেপরোয়া ঘোষণার প্রেক্ষিতে পাল্টা কঠোর পদক্ষেপ এসেছে বেজিংয়ের তরফেও। মার্কিন পণ্যের উপর আমদানি শুল্ক ৩৪ শতাংশ থেকে আরও ৫০ শতাশ বাড়িয়ে ৮৪ শতাংশ করেছে চীন। ১০ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার থেকে এই অতিরিক্ত কর চালু হবে। ট্রাম্পের ঘোষণার আগেই ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের পথে হেঁটেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নও। ট্রাম্পকে রুখতে চীনের তরফে ফের বন্ধুত্বের বার্তা এসেছে ভারতের কাছে।
নয়াদিল্লিতে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র ইউ জিং সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, সমস্যা কাটিয়ে উঠতে ভারত ও চীনের একত্রে রুখে দাঁড়ানো উচিত। ইউ জিংয়ের কথায়, ভারত-চীন আর্থিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্কের ভিত্তি হল পারস্পরিক সুরাহা। আমেরিকার শুল্ক-হেনস্তার জেরে বহু দেশ বঞ্চিত। বিশেষ করে ‘গ্লোবাল সাউথ’ অঞ্চলের দেশগুলি। তাই এই সারিতে থাকা দু’টি বৃহত্তম উন্নয়নশীল দেশের একত্রে দাঁড়ানো উচিত। আমেরিকার সঙ্গে শুল্ক-সংঘাতের আবহে বুধবার প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক শক্তিশালী করে তোলার বার্তা দিয়েছেন স্বয়ং চীনের প্রেসিডেন্ট জি জিনপিংও।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন