বর্ধমান:
গ্রামে বাড়ি তৈরি করতে হলে প্ল্যান পাশের জন্য অনলাইনে আবেদন করা
বাধ্যতামূলক। অনিয়ম বন্ধ করার জন্যই পঞ্চায়েত দপ্তর এই সিদ্ধান্ত
নিয়েছে। চলতি মাসের শেষের দিক থেকেই এই নিয়ম বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিল্ডিং প্ল্যানের জন্য আগেও অনলাইনে আবেদন
করার সুযোগ ছিল। তবে তা বাধ্যতামূলক ছিল না। অনেকেই অফলাইনে নিজেদের মতো
করে আবেদন করতেন। পঞ্চায়েত দপ্তরের একাংশকে খুশি করে যে যার ইচ্ছেমতো বাড়ি
তৈরি করতে পারত। এবার আর তা হবে না। বাড়ি তৈরির বিস্তারিত বিবরণ দিয়ে
অনলাইনে আবেদন করতে হবে। পঞ্চায়েত দপ্তরের কর্মীরা প্রয়োজনে সেই এলাকায়
গিয়ে সবকিছু খতিয়ে দেখবেন। বিল্ডিং প্ল্যানের ফিও অনলাইনে পেমেন্ট করা
যাবে।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, পঞ্চায়েতের বিভিন্ন কাজ
অনলাইনে করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পঞ্চায়েত দপ্তরের কর্মীদের তা নিয়ে
প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কাজের জন্য আলাদা পোর্টাল থাকবে। কয়েকটি
পোর্টালের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ
সব কাজ অনলাইনে করা হবে। তাতে অনিয়ম যেমন কমবে তেমনই কাজেও গতি পাবে। শহর
এলাকায় বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমতি অনলাইনে নেওয়া অনেক আগেই বাধ্যতামূলক
করা হয়েছে। তার সুফল পাওয়া গিয়েছে। এবার একইভাবে পঞ্চায়েতেও কাজ শুরু
হবে। বিল্ডিং প্ল্যানের অনুমতি নেওয়ার জন্য কোনও নেতা-নেত্রীর দ্বারস্থ
হওয়ার দরকার নেই। প্রয়োজনীয় নথি দিয়ে গ্রামের বাসিন্দারা বাড়ি থেকেই
আবেদন করতে পারবেন।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, দোতলা পর্যন্ত
বাড়িতে অনুমতি পঞ্চায়েত থেকে পাওয়া যায়। বহুতলের অনুমতি জেলা পরিষদ
থেকে নিতে হয়। বিভিন্ন জায়গায় উন্নয়ন সংস্থা রয়েছে। সেই সংস্থাগুলিতেও
প্রয়োজনীয় নথি জমা করতে হয়। বর্ধমান সংলগ্ন পঞ্চায়েত এলাকাগুলিতে
বহুতল মাথা তুলছে। অনেক নির্মাণকারী সংস্থাই নিয়ম মানছে না বলে অভিযোগ।
উল্লাস এলাকায় একটি বহুতল অনুমতি ছাড়াই তৈরি হয়েছিল। জেলা পরিষদ চিঠি
দিয়ে কাজ বন্ধ করে। জেলা পরিষদের সভাধিপতি শ্যামাপ্রসন্ন লোহার বলেন, কোনও
গ্রামীণ এলাকাতেই অবৈধভাবে নির্মাণ করা যাবে না।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন