কলকাতা: ঝাঁ চকচকে নতুন গাড়ি কেনার সামর্থ্য নেই অনেকেরই। তাঁরা ঝুঁকছেন সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ির দিকে। তুলনামূলকভাবে দাম কম। কিন্তু এক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, অনেকেই আইনি নথি সহ গাড়ির মালিকানার কোনও পরিবর্তন করছেন না। সেক্ষেত্রে ওই গাড়ি আইন ভাঙলে কিংবা কোনও অপরাধের সঙ্গে যুক্ত হলে, তার দায় বর্তাবে পুরনো মালিকের উপরই। এমনই বার্তা দিয়েছে লালবাজার।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি গার্ডেনরিচ ফ্লাইওভারের উপর একটি গাড়ি উল্টে এক নাবালকের মৃত্যু হয়। তদন্তে নেমে পুলিস জানতে পারে, খাতাকলমে গাড়িটির মালিকের নাম সুলতান শেখ। কিন্তু গাড়ি চালাচ্ছিল রোহিত আগরওয়াল নামে এক ১৮ বছরের কিশোর। সে গাড়িটির তৃতীয় ‘মালিক’। অর্থাৎ, কোনও ব্যক্তি প্রথমে সুলতান শেখের থেকে গাড়িটি কিনে পরে রোহিতকে বিক্রি করেছিলেন। দ্বিতীয় মালিকও গাড়িটির মালিকানা বদল করেননি। দু’টি বেচাকেনাই হয়েছে বেআইনিভাবে। তদন্তকারীরা আরও জানতে পারেন, দুর্ঘটনাগ্রস্ত গাড়িটির সমস্ত নথির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে।
ব্যবহৃত গাড়ি কেনার সময় অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, নথিপত্রে কিছু গলদ রয়েছে। যিনি গাড়ি বিক্রি করছেন, তিনি বিক্রির পর কোনও দায় নিতে চান না। অনেক সময় আবার বিক্রেতার ট্রাফিক জরিমানা বকেয়া থাকে। কোনও গাড়ি বা বাইকের এক, একটি নথি পুনর্নবিকরণ করতে গেলে আলাদা খরচ হয়। মালিকানা পরিবর্তনের খরচও যুক্ত হয় তার সঙ্গে। এইসব নানা কারণে ক্রেতাদের একাংশ ব্যবহৃত গাড়ির মালিকানা বদলের কোনও ঝক্কি নিতে চান না।
পরিবহণ দপ্তরের তরফে জানানো হচ্ছে, ব্যবহৃত গাড়ির মালিকানা পরিবর্তনের জন্য ২৯ ও ৩০ নম্বর ফর্ম পূরণ করতে হয় ক্রেতা ও বিক্রেতাকে। এছাড়া প্রয়োজন হয় গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট (আরসি) সহ সমস্ত বৈধ নথিপত্র, ক্রেতা, বিক্রেতার সচিত্র পরিচয়পত্র, বাড়ির ঠিকানার প্রমাণপত্র, নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি)। মালিকানা পরিবর্তনের পর নতুন মালিকের নামে তৈরি হয় নতুন রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেট বা আরসি। নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে না পারলে আইনত ঝুঁকি থাকে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন