বারাসত: কিডনি পাচার চক্রে ধৃত সুদখোর বিকাশ ঘোষের কাছে সম্ভাব্য কিডনিদাতাদের নামের তালিকা ছিল। একজন মহিলা কিডনিদাতার স্বামী থানায় অভিযোগ করার পর তদন্তে এই পাচারচক্রের রমরমা কারবার সামনে আসে। পুলিস বিকাশকে গ্রেপ্তার করে। তা না হলে এতদিনে আরও কয়েকজন সুদের ফাঁদে পড়ে কিডনি দিয়ে দিতে পারত বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা। তাঁরা জেনেছেন, পরবর্তী অন্তত তিনজন সম্ভাব্য কিডনিদাতা ঠিক করে রেখেছিল বিকাশ, গুরুপদ জানাদের ‘গ্যাং’। এই তিনজনই জেলা প্রশাসনের কাছে কিডনি দানের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন। এই চক্রের পর্দাফাঁস হয়ে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই বেঁচে গেলেন অভাবী মানুষগুলি। তবে তাঁদের গতিবিধিও নজরে রাখছেন তদন্তকারীরা। তাঁরা আরও জেনেছেন, কিডনির জন্য আবেদনকারীদের মধ্যে কয়েকজন ভিন রাজ্যের বাসিন্দা আছেন।
কিডনি পাচার চক্রে জড়িত অভিযোগে সুদখোর বিকাশ ঘোষ ওরফে শীতল, অন্যতম মাথা গুরুপদ জানা ওরফে অমিত সহ পাঁচজন গ্রেপ্তার হওয়ার আগেই ওই তিনজন আইনি অনুমোদনের জন্য আবেদন করে। আগে এই চক্রের মাধ্যমে কিডনি বিক্রি করেছে, এমন কারও সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ আছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শীতলের সুদের জালে জড়িয়ে কিডনি বিক্রি করতে কার্যত বাধ্য হওয়া ব্যক্তিদের তালিকা আরও লম্বা হতে পারে বলে মনে করছে পুলিস। তারা জেনেছে, মূলত বস্তি এলাকার গরিব মানুষকেই ‘টার্গেট’ করত শীতল। চড়া সুদে টাকা ধার নিয়ে শোধ করতে না পারলে ‘চাপ’ দিয়ে কিডনি বিক্রি করানো হতো।
কেউ কিডনি বিক্রি করে ৪-৫লক্ষ টাকা পেয়ে টোটো বা ভ্যান কিনলে বা দোকান দিলে তা সহজেই অন্যদের নজরে আসত। তখন আরও কেউ কেউ শীতলের দ্বারস্থ হতো টাকার জন্য। তারপর ছিল ফাঁদে ফেলার পরিচিত ছক। এভাবে কার্যত ‘চেইন সিস্টেমে’ কিডনি বিক্রি চালানো যেত দিনের পর দিন। এই কারণে শুধু অশোকনগরের কল্যাণগড়েই অন্তত ২০ জন কিডনি বিক্রি করেছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। এই চক্রের সঙ্গে ক্যানিং এবং উত্তরবঙ্গের যোগও মিলেছে। এভাবেই বহু বছর ধরে সহজে এবং তুলনামূলক কম দামে কিডনি পাওয়ার ‘বিশ্বস্ত’ ঘাঁটি গড়ে উঠেছিল কলকাতার নিকটবর্তী অঞ্চলে। আর সেই কারণেই ভিন রাজ্য থেকে কিডনি সংক্রান্ত চিকিৎসার জন্য কলকাতায় ভিড় দিনে দিনে বাড়ছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন