বাড়িতে অ্যাকোয়ারিয়াম আছে? কীভাবে সাজাবেন অ্যাকোয়ারিয়াম - Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel News | Latest Bengali News Bangla News, বাংলা খবর, কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, তৃণমূল, বিজেপি খবর

Aaj Bikel is currently West Bengal's leading, popular, authentic and trustworthy digital media. Aaj Bikel News has become the voice of crores of readers and viewers.

শনিবার, ৫ এপ্রিল, ২০২৫

বাড়িতে অ্যাকোয়ারিয়াম আছে? কীভাবে সাজাবেন অ্যাকোয়ারিয়াম

 




অ্যাকোয়ারিয়ামের স্ফটিক স্বচ্ছ জলে রঙিন মাছদের খেলা দেখতে দেখতে অনেক সময়েই অবলীলায় দিনের অনেকখানি সময় কাটিয়ে দেওয়া যায়। আর বাড়িতে খুদে সদস্য থাকলে তো কথাই নেই! রঙিন মাছদের সঙ্গে দিব্যি সখ্য জমিয়ে সেও নিত্যনতুন খেলায় মেতে থাকে দিনের অধিকাংশ সময়ই! কিন্তু যে অ্যাকোয়ারিয়ামটিকে আমরা সাধারণত ড্রয়িংরুমের কোণে সুসজ্জিত অবস্থায় রাখার বন্দোবস্ত করি, তার উপযুক্ত যত্ন-পরিচর্যা এবং সজ্জারও প্রয়োজন পড়ে। কাজেই অতিথিদের সামনে নিজের শখের বন্ধুদের সুন্দর করে উপস্থাপন করার প্রয়োজনে অনায়াসেই আপনি এই পদ্ধতিগুলি অবলম্বন করতে পারেন।


সার্বিক পরিচর্যা

অ্যাকোয়ারিয়াম পরিচর্যার ক্ষেত্রে সর্বপ্রথমেই যে বিষয়টি মনে রাখা প্রয়োজন, তা হল জলের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা। এক্ষেত্রে আপনি প্রতি সপ্তাহে মোট জলের ২৫-৩০ শতাংশ পরিবর্তন করতে পারেন। জল পাল্টানোর সময়ে ক্লোরিনমুক্ত জলের ব্যবহার আবশ্যক এবং একইসঙ্গে জলের পিএইচ স্তর এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখাটাও বিশেষ প্রয়োজন।

অ্যাকোয়ারিয়ামের জলের তাপমাত্রা আমাদের পারিপার্শ্বিক তাপমাত্রা অথবা আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সমানভাবে পরিবর্তিত হয়ে থাকে। বিশেষত শীতকালে এই তাপমাত্রা পরিবর্তনের বিষয়টির উপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। জলের নির্দিষ্ট তাপমাত্রা বজায় রাখার জন্য হিটার ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে হিটারের বন্দোবস্ত করার আগে অবশ্যই জলের পরিমাণ এবং অ্যাকোয়ারিয়ামের আয়তন, এই বিষয়গুলি মাথায় রাখতে হবে।

গ্রীষ্মকালে বাইরের তাপমাত্রার সঙ্গে সামঞ্জস্য বজায় রেখে অ্যাকোয়ারিয়ামের জল কয়েকদিন অন্তর অন্তর পরিবর্তন করা যেতে পারে। কিন্তু শীতকালে এই নিয়মের ঈষৎ ব্যতিক্রমও হতে পারে। ঘন ঘন জল পরিবর্তনের কারণে জলের মধ্যে মাছদের ভারসাম্য ও সামঞ্জস্য বজায় রাখতে সমস্যা হতে পারে, সেই কারণে সম্পূর্ণ অ্যাকোয়ারিয়ামের জল একেবারে না পাল্টে একটু একটু করে পরিবর্তন করা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে জলের তাপমাত্রা হঠাৎ বেড়ে বা কমে যাওয়ারও সম্ভাবনা থাকে না।

তাপমাত্রার নানাবিধ পরিবর্তনের কারণে অ্যাকোয়ারিয়ামের মধ্যে ছত্রাকজনিত সংক্রমণের সম্ভাবনা অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়। সংক্রমণের হাত থেকে অ্যাকোয়ারিয়ামটিকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়টি অবশ্যই খেয়াল করতে হবে।

অ্যাকোয়ারিয়ামের মাছদের মধ্যে পর্যাপ্ত পরিমাণে অক্সিজেন সরবরাহের জন্য এয়ার পাম্প ব্যবহার করা প্রয়োজন।

বছরের যে কোনও সময়েই মাছদের অ্যাকোয়ারিয়ামের বাইরে বেশিক্ষণ রাখা উচিত নয়। এতে মাছদের শরীরে অক্সিজেন সরবরাহ তুলনামূলকভাবে কমে যেতে পারে, একইসঙ্গে অ্যাকোয়ারিয়ামের এক্কেবারে পাশের জানালাটি সবসময় বন্ধ করে রাখা উচিত। এতে তাপমাত্রা পরিবর্তনের প্রভাব অনেকাংশেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

অ্যাকোয়ারিয়ামের ভিতরে আলোর ব্যবহারেও নিয়ন্ত্রণ রাখতে হবে। খুব বেশি পরিমাণে আলোর ব্যবহারের কারণে অ্যাকোয়ারিয়ামের ভিতরে অতিরিক্ত পরিমাণে শ্যাওলা জন্মাতে পারে। দিনে ৮-১০ ঘণ্টা আলো ব্যবহার করা যেতে পারে। এছাড়াও, মাছের জন্য স্বাভাবিক পরিবেশ তৈরি করতে ডিম লাইটিং-এর সুব্যবস্থা রাখা যেতে পারে।

অ্যাকোয়ারিয়ামের মাছদের খাবার দেওয়ার ক্ষেত্রেও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন প্রয়োজন। দিনে ১ থেকে ২ বার মাছদের খাবার দেওয়া যেতে পারে। মাছদের অতিরিক্ত পরিমাণে খাবার দেবেন না, এতে অ্যাকোয়ারিয়ামের জল অকারণে নোংরা হতে পারে।

অ্যাকোয়ারিয়ামের পরিচর্যার ক্ষেত্রে মাছদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ করাটাও খুবই প্রয়োজন। একটি অসুস্থ মাছ থেকে অন্য মাছদের মধ্যেও সংক্রমণের সম্ভাবনা তৈরি হয়।

সাজাবেন কীভাবে
প্রথমত, আপনার অ্যাকোয়ারিয়ামের ধরন এবং আয়তন অনুসারে উপযুক্ত একটি থিম আপনি নির্বাচন করতে পারেন। থিম অনুসারে প্রাকৃতিক, আধুনিক অথবা ফ্যান্টাসি থিম আপনি বেছে নিতে পারেন। 

অ্যাকোয়ারিয়াম সজ্জায় প্রথমেই যে বিষয়টি বিশেষভাবে লক্ষণীয় তা হল অ্যাকোয়ারিয়ামের সাবস্ট্রেট নির্বাচন। এক্ষেত্রে আপনি রঙিন গ্র্যাভেল কিংবা নরম বালি এবং কাঁকর ব্যবহার করতে পারেন। ছোট মাছদের জন্য নরম বালি ও অপেক্ষাকৃত বড় মাছদের জন্য মাঝারি আয়তনের কাঁকর ব্যবহার করা যেতে পারে।

অ্যাকোয়ারিয়ামের মধ্যে অক্সিজেন সরবরাহ বজায় রাখার ক্ষেত্রে এবং মাছদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করার জন্য বিভিন্ন জলজ উদ্ভিদ যেমন, অ্যানুবিয়াস, জাভা ফার্ন, অ্যামাজন সোর্ড ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন। অবশ্য স্বল্প খরচে রক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য প্লাস্টিক কিংবা সিলিকনের উদ্ভিদও ব্যবহার করা যেতে পারে।

অ্যাকোরিয়ামের পিছনের পর্দাটি গাঢ় রঙের হলে অ্যাকোয়ারিয়ামের অন্য রঙিন উপাদানগুলোকে আপনি আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে পারেন। এছাড়াও থিম অনুসারে পেন্টেড কিংবা প্রিন্টেড ব্যাকগ্রাউন্ডও নির্বাচন করতে পারেন, যেমন সমুদ্রের নীচের দৃশ্য, গুহা, অথবা অরণ্যের অংশ ইত্যাদি। এতে অ্যাকোয়ারিয়ামের সৌন্দর্য অনেকাংশেই বৃদ্ধি পায়।

সাজসজ্জার উপকরণ হিসেবে কৃত্রিম দুর্গ, ব্রিজ বা ছোট-গুহা ব্যবহার করতে পারেন। ছোট ছোট মাছের লুকানোর জায়গা হিসেবে এগুলি বেশ সুন্দরভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

বাবল স্টোন বা ফোয়ারা তৈরির মাধ্যমে জলের ভিতরে বুদবুদ বানিয়ে আকর্ষণীয় পরিবেশ তৈরি করা যেতে পারে। সামুদ্রিক শামুকের খোলস ব্যবহার করেও আপনি অ্যাকোয়ারিয়ামের পরিবেশে অতিরিক্ত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যোগ করতে পারেন।

এছাড়াও লাভা রক, শিলা অথবা কৃত্রিম কাঠ ব্যবহারের মাধ্যমে মাছদের জন্য আশ্রয়স্থল তৈরি করে আপনি অ্যাকোয়ারিয়ামের মধ্যে সাধারণ প্রাকৃতিক পরিবেশ তৈরি করতে পারেন।




কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন