
তেহট্ট: রাধানগর সেতু চালু হওয়ার পর নদীয়া ও মুর্শিদাবাদ জেলার যোগাযোগ সহজ হয়েছে। বহরমপুর ও কৃষ্ণনগর থেকে প্রায় সত্তরটি বাস রাধানগর ঘাটে যাতায়াত করে। অথচ সেখানে নেই কোনও স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড। অস্থায়ীভাবে একজনের নিজস্ব জায়গায় এই বাসগুলো দাঁড়িয়ে থাকে। বাসকর্মীদের কথায়, সেই জায়গায় দাঁড়ানোর জন্য ভাড়া দেওয়া হয় বাসপ্রতি ২০ টাকা। তাই কর্মীদের সঙ্গে সঙ্গে যাত্রীরাও স্থায়ী বাসস্ট্যান্ডের দাবি করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কৃষ্ণনগর-পাটিকাবাড়ি ঘাট ও বহরমপুর–রাধানগর ঘাট— এই দুই রাজ্য সড়কে প্রায় ৭০টি বাস চলে। জলঙ্গি নদীর একদিকে নদীয়া জেলার রাধানগর ও অন্যদিকে মুর্শিদাবাদ জেলার পাটিকাবাড়ি। সেতু হয়ে যাওয়ার পর মুর্শিদাবাদ জেলার বাসগুলো সব রাধানগরে এসে দাঁড়ায়। এরমধ্যে দশ-বারোটি বাস রাতে এই জায়গায় থাকে। স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড না থাকায় সেই বাসগুলো রাতে যেখানে দাঁড়িয়ে থাকে সেই জায়গা ব্যক্তিগত মালিকানাধীন। সেখানে বাস রাখলে দিতে হয় ভাড়া। এক বাসকর্মী বাপি বিশ্বাস বলেন, সেতু হয়ে যাওয়ার পর দুই জেলার বাস এখানে দাঁড়িয়ে থাকে। স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড হলে বাসগুলো আর ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জায়গায় দাঁড়াত না। সেতুর পাশেই একটা সরকারি জায়গা আছে। সেখানে যদি স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড হয়, তবে আমাদের যেমন সুবিধা হয়, তেমন যাত্রীদেরও উপকার হয়। আমরা প্রশাসনের কাছে আবেদন করছি, এই জায়গায় স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড করার। এলাকার এক বাসিন্দা বলেন, স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড হলে এলাকার যেমন উন্নতি হবে, তেমনি বেশ কিছু মানুষের কর্মসংস্থানও হবে। এখন রাজনৈতিক নেতারা যদি এটা নিয়ে তৎপরতা দেখান, তবে বাসস্ট্যান্ডটি দিনের আলোর মুখ দেখবে।
বহরমপুর যাচ্ছিলেন অঞ্জলি চক্রবর্তী নামে এক বৃদ্ধা। তিনি বলেন, স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড না হওয়ায় এখানে কোনও যাত্রী বিশ্রামাগার নেই। ফলে আমাদের কোনও দোকানে বসে থাকতে হয়। স্থায়ী বাসস্ট্যান্ড হলে আমাদের বসার একটা জায়গা হয়। আর বাসের সময় তালিকা থাকলে আমাদের মতো বয়স্ক মানুষের সুবিধা হয়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন