বহরমপুর: কেন্দ্রীয় সরকার বিরোধী আন্দোলন-বিক্ষোভ ‘হিংসাত্মক’ আকার নিল মুর্শিদাবাদে। জঙ্গিপুর মহকুমার সূতি, ধুলিয়ান ও সামশেরগঞ্জে তাণ্ডব শুরু করেছে দুষ্কৃতীরা। শুক্রবার বিক্ষোভের নামে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট ও পুলিসকে আক্রমণের পর শনিবার নতুন করে ধুলিয়ানে সক্রিয় হয়ে ওঠে দুষ্কৃতীরা। এখনও পর্যন্ত তিনজনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। এই পরিস্থিতিতে উদ্বিগ্ন মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যে কড়া ব্যবস্থা নিয়েছেন। রুট মার্চ শুরু করেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ১৫৫ জনকে। রাজ্যবাসীকে শান্তি রক্ষার আবেদনও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
দু’দিনের এহেন গোলমালের জেরে জঙ্গিপুর মহকুমায় ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ। কিন্তু গোয়েন্দা দপ্তর সূত্রের খবর, ঝাড়খণ্ড এবং মুর্শিদাবাদের অন্য প্রান্ত থেকে অবিরাম গুজব ও বিকৃত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। উস্কানি আর প্ররোচনা আসছে সীমান্তের ওপার থেকেও। সেই ভিত্তিহীন তথ্যের ভরসাতেই ‘বাংলাদেশের’ ধাঁচে শুরু হয়েছে শপিং মল, নার্সিংহোম ও দোকানে দোকানে লুটপাট, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ। শুক্রবার রাতে সামশেরগঞ্জের ডাকবাংলো ট্রাফিক গার্ডে আক্রমণ চালায় দুষ্কৃতীরা। ভাঙচুর করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয় সেখানে। তার আগে তাণ্ডব চলে ধুলিয়ানে রেলের রুট রিলে কেবিন দপ্তরে। সূত্রের খবর, গ্রাম-মহল্লায় নিরীহ মানুষের বাড়িতে ঢুকে আক্রমণ চালাচ্ছে দুষ্কৃতীরা। শনিবার বিকেলে সামশেরগঞ্জ থানায় হামলা চালিয়ে আগুন লাগানোর চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। সন্ধ্যায় হিজলতলায় মারমুখী জনতাকে ঠেকাতে গুলি চালায় বিএসএফ। জখম হন একজন।
এই পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে দ্রুত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্টের বিচারপতি সৌমেন সেন ও বিচারপতি রাজা বসু চৌধুরীর স্পেশাল বেঞ্চ। যদিও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুক্রবার থেকেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় বিএসএফ মোতায়েন রয়েছে। গোটা পরিস্থিতি নিয়ে এদিন মুখ্যসচিব মনোজ পন্থ ও ডিজি রাজীব কুমারের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন। তিনি জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে ৩০০ বিএসএফ জওয়ান মোতায়েন করা হলেও পরে রাজ্যের অনুরোধে আরও পাঁচ কোম্পানি মোতায়েন হয়েছে। শনিবার রাতে মুর্শিদাবাদ পৌঁছে সামশেরগঞ্জ থানায় বৈঠক করেন রাজীব কুমার। তার আগে কলকাতায় সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কাউকে রেয়াত করা হবে না। হাঙ্গামাকারীদের ভিডিও ফুটেজ মিলেছে। প্রত্যেককে চিহ্নিত করা হচ্ছে।’ পুলিস জানিয়েছে, শুক্রবার সূতিতে মারমুখী জনতাকে নিয়ন্ত্রণে আনতে চার রাউন্ড গুলি চালানো হয়। গুলিবিদ্ধ হন ইজাজ আহমেদ। কলকাতায় স্থানান্তরের পথে তাঁর মৃত্যু হয়। গুলিবিদ্ধ আরও তিনজন চিকিৎসাধীন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন