বিষ্ণুপুর: বেশি রিটার্ন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জয়পুরের এক স্কুল শিক্ষকের ২৬ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ায় পুলিস শনিবার উত্তর ২৪ পরগনার দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের নাম রাকেশ সরকার ও কল্যাণ মল্লিক। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে জয়পুরের এক স্কুল শিক্ষককে আর্থিক প্রতারণা করার অভিযোগ রয়েছে। তার ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা কলকাতার পার্কস্ট্রিটে অফিস খুলে সাধারণ মানুষকে বেশি টাকা রিটার্ন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা করছিল বলে অভিযোগ। এদিন দু’জনকেই বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ওই চক্রের মাথা কল্যাণকে চারদিন পুলিসি হেফাজত এবং রাকেশকে ১৪ দিন জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন।
পুলিস জানিয়েছে, এই চক্রের বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। জয়পুরের রাজশোলের বাসিন্দা প্রতারিত শিক্ষক বলেন, অভিযুক্তদের বিশ্বাস করে আমি প্রথমে ১০ লক্ষ টাকা লগ্নি করেছিলাম। কয়েকমাস লভ্যাংশ দেওয়ায় লোভে পড়ে আরও ১৬ লক্ষ টাকা ওদের সংস্থায় লগ্নি করেছিলাম। এভাবে চলতে চলতে একটা সময় লভ্যাংশের অঙ্ক প্রায় ৯০ লক্ষ টাকায় পৌঁছে যায়। কিন্তু, তার কানাকড়িও দেওয়া হয়নি। আমার আসল টাকা ফেরত দিতে বললে তারা বেপাত্তা হয়ে যায়। তাই পুলিসের দ্বারস্থ হয়েছিলাম। আমার মতো অনেকেই ওদের দ্বারা লক্ষ লক্ষ টাকা প্রতারিত হয়েছেন। আমি দোষীদের উপযুক্ত শাস্তি চাই।
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০২৪ সালের জানুয়ারি মাসে ওই শিক্ষক স্থানীয় দুই যুবকের পাল্লায় পড়ে কলকাতায় পার্কস্ট্রিটে যান। সেখানে একটি সংস্থায় অর্থ লগ্নি করলে প্রতি মাসে মোটা টাকা রিটার্ন পাওয়া যাবে বলে আশ্বস্ত করা হয়। সেই মতো তিনি প্রথমে ১০ লক্ষ টাকা লগ্নি করেন। প্রথম কয়েক মাস কিছু টাকা রিটার্নও দেয়। তবে লাভের অঙ্ক উল্কার গতিতে বাড়তে থাকায় তিনি উৎসাহিত হয়ে আরও ১৬ লক্ষ টাকা লগ্নি করেন। এভাবে একসময় লাভের অঙ্ক ৯০ লক্ষ টাকায় পৌঁছে যায়। শিক্ষক এরপর টাকা তুলতে চাইলে তখনই ওদের আসল স্বরূপ বোঝা যায়। টাকা ফেরত তো দূরের কথা। অফিসের ঝাঁপ বন্ধ করে তারা বেপাত্তা হয়ে যায়। এরপরেই ওই শিক্ষক জয়পুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন