রামপুরহাট: মঙ্গলবার নববর্ষের বিকেলে সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের নামে পুজো দিলেন বীরভূম জেলা তৃণমূল সভাপতি অনুব্রত মণ্ডল। প্রায় আড়াই বছর পর এদিন তিনি তারাপীঠে আসেন। তাঁকে ঘিরে নেতা, কর্মী, সমর্থক ও সেবাইতদের একাংশের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো। বছরের প্রথম দিনে দেবী তারাকে পুজো দিতে তারাপীঠ মন্দিরে উপচে পড়েছিল ভিড়।
এদিন নির্ধারিত সময়েই খুলে দেওয়া হয় গর্ভগৃহ। দ্বারকা নদে স্নান করে নতুন জামা পরে পুজো দেন ভক্তরা। রাত থেকে ঝিরঝির বৃষ্টি হলেও ভোরে ভক্তদের পুজো দেওয়ার লাইনে তার প্রভাব দেখা যায়নি। সকাল আটটার পর বৃষ্টি থামতেই হোটেল থেকে বেরতে শুরু করেন পর্যটকরা। বেলা যতই গড়িয়েছে ততই ভিড় বেড়েছে।
এ
বছর শনিবার থেকে টানা চারদিনের ছুটির মধ্যেই পয়লা বৈশাখ হওয়ায় তিনদিন আগ
থেকেই ভক্তদের ভিড় জমতে শুরু করে তারাপীঠে। সোমবার রাত ন’টা থেকে ঝিরঝির
বৃষ্টি শুরু হয়ে যায়। যা চলে মঙ্গলবার সকাল আটটা পর্যন্ত। বৃষ্টি উপেক্ষা
করেই ভোর থেকে ভক্তরা ভিড় জমান। আকাশ রোদ ঝলমলে হতেই ভিড় বাড়ে।
প্রত্যেক
বছরের মতোই এবারও স্থানীয়দের পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের
ব্যবসায়ীরা হালখাতার জন্য এসেছিলেন। আবার কেউ গণেশের মূর্তি দেবীকে স্পর্শ
করিয়ে নিয়ে যান। অনেকে নববর্ষের প্রথম দিনে দেবীর কাছে পুজো দিয়ে পরিবারের
মঙ্গল কামনা করেন। এদিন পুণ্যার্থীরা পেঁড়ার পাশাপাশি লাড্ডু দিয়েও দেবীকে
পুজো দেন। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে দশ হাজার লাড্ডু বানানো হয়েছিল। যা
ভক্তদের মধ্যে বিলি করা হয়। সকাল ১১টা নাগাদ মন্দিরে পুজো দিতে আসেন
তৃণমূলের জেলা চেয়ারম্যান আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, মমতা
বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম
গোত্র ধরে পুজো দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মায়ের কাছে সকলের মঙ্গল কামনা করা
হয়েছে।
এদিন উপচে পড়া ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য একাধিক ব্যবস্থা নিয়েছিল
তারাপীঠ মন্দির কমিটি ও পুলিস। মন্দির কমিটির পক্ষ থেকে নানা রঙের আলো ও
ফুল দিয়ে সাজিয়ে তোলা হয়েছিল মন্দির চত্বর। মেমারির রামকৃষ্ণ বোস বলেন,
মায়ের কৃপায় মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে ফিরেছি। মায়ের অপার মহিমা। তাই তো
প্রতিবছর এই দিনটিতে মায়ের কাছে আসা চাই। এদিন তিনি সকল ভক্তদের জন্য
ভাণ্ডারা দেন।
এদিন বিকেলে মেয়ে সুকন্যাকে নিয়ে মন্দিরে পুজো দিতে
আসেন অনুব্রত মণ্ডল। মন্দিরে তাঁদের স্বাগত জানান দলের রামপুরহাট ২ ব্লক
সভাপতি সুকুমার মুখোপাধ্যায়। প্রায় মিনিট পনেরো ধরে তিনি পুজো করেন।
পুজো শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক
বন্দ্যোপাধ্যায়, আমার স্ত্রী ও মেয়ের নামেও পুজো দিলাম। মমতা ও অভিষেক
বন্দ্যোপাধ্যায়ের শরীর যাতে ভালো থাকে, দলের সকল কর্মী এই গোটা
পশ্চিমবঙ্গের মানুষ ভালো থাকেন। খুব শীঘ্রই তারাপীঠে বড় হোমযজ্ঞ করব।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন