কলকাতা: বিএড এবং ডিএলএড কোর্সের কেন্দ্রীয় নিয়ামক সংস্থা এনসিটিই’র রোষানলে রাজ্যের অন্তত ৩৫টি কলেজ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পারফরম্যান্স অ্যাপ্রাইজাল রিপোর্ট (পার) জমা দিতে না পারায় কলেজগুলিকে শো-কজ করেছে এনসিটিই। তবে ওয়াকিবহাল মহলের বক্তব্য, এই শো-কজ আসলে নিয়মরক্ষা। আদতে এগুলির স্বীকৃতি বাতিল করতে চলেছে এনসিটিই। কারণ, এই রিপোর্ট সময়ে জমা না দিলে যে কলেজের স্বীকৃতি বাতিল হবে, তা আগে একাধিকবার জানিয়েছে এনসিটিই।
এনসিটিই প্রকাশিত তালিকায় ২৪টি প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। তবে এর মধ্যে একই প্রতিষ্ঠানের অধীনে ডিএলএড এবং বিএড, দু’টি কলেজই রয়েছে। সেই হিসেবে দেখা যাচ্ছে, ২৪টি ডিএলএড, ১০টি বিএড এবং একটি বিপিএড কলেজ এই তালিকায় রয়েছে। দু’টি কলেজ ইতিমধ্যেই জানিয়েছে, তারা আর এতে অংশ নেবে না। অর্থাৎ তারা আর স্বীকৃতি চাইছে না। প্রসঙ্গত, এই বিশেষ রিপোর্টে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের লোকবল, পরিকাঠামো, সম্পদ, শিক্ষকদের যোগ্যতা এবং বেতন প্রভৃতি তথ্য এক নজরে পেয়ে যাওয়া সম্ভব। বহু কলেজ এক্ষেত্রে পিছিয়ে থাকায় সেই রিপোর্ট জমা দেয়নি বলেই সূত্রের খবর। এনসিটিই সূত্রে জানা গিয়েছে, জমা পড়া রিপোর্টগুলির স্ক্রুটিনি শুরু হয়েছে। তাই আসল ধাক্কা আসতে পারে এর পর। যেসব কলেজের ‘পার’ আশাব্যাঞ্জক হবে না, সেগুলিও সমস্যায় পড়বে। সুযোগ দেওয়া হবে। তবে এক্ষেত্রেও চূড়ান্ত শাস্তি হল স্বীকৃতি বাতিল। এই ছবি শুধু এ রাজ্যের নয়, গোটা দেশেই একই চিত্র। যে রাজ্য যত বড় এবং যত বেশি কলেজ, সেখানে সমস্যা তত বেশি। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নিজের রাজ্য গুজরাতেই ৮৯টি কলেজ ‘পার’ জমা দিতে পারেনি। গোটা এরকম কলেজের সংখ্যা প্রায় তিন হাজার। এনসিটিই চেয়ারম্যান পঙ্কজ অরোরা বিভিন্ন সময় যে বিবৃতি দিয়েছেন, তাতে ইঙ্গিত মিলেছে যে এই কলেজগুলির ভবিষ্যৎ কার্যত অন্ধকার।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন