ঘাটাল: ‘ভুল করেছি, শাস্তি পেয়েছি। কিন্তু আর নয়। আমি সুস্থভাবে মাথা উঁচু করে বাঁচতে চাই। আমাকে আর মিথ্যে অপবাদে জড়াবেন না।’ পুলিসকে উদ্দেশ্য করে সোশ্যাল মিডিয়ায় করুণ আর্তি এক যুবকের। পুলিসের খাতায় এক সময়ের ‘পেশাদার’ চোর হিসেবে বছর আঠাশের যুবক শেখ সইফুল আলি ওরফে কেটুর নাম ছিল। বাড়ি দাসপুর থানার খাটবাড়ুইয়ে। বর্তমানে নিজেকে ‘শুধরে’ নেওয়ার পরও যেন শিকল ভাঙতে পারছেন না। অতীতের দু’একবারের ভুল আজও তাঁকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে। তিনি বলেন, ‘ভুল মানুষেরই হয়। কখনও পরিস্থিতির চাপে, কখনও অল্পবয়সের ভুল সিদ্ধান্তে মানুষ ভুল করে ফেলে। আমিও তাই করেছিলাম। এক সময় চুরি করলেও এখন সেই অতীত থেকে বেরিয়ে এসেছি। কিন্তু পুলিস অতীতের সেই কৃতকর্মের জন্য এখনও আমাকে ছাড়ছে না। আমি এবার পরিত্রাণ পেতে চাই।’ কেটু কম বয়সেই আহমেদবাদে কাঠের কাজে চলে যান। সেখানে মন দিয়ে কাজও শিখে কম দিনের মধ্যে আয়ও করতে শুরু করেন। বছর কুড়ি বয়সে বিয়েও করে নেন। একটি পুত্র সন্তানও হয়। কিন্তু করোনা মহামারি ও লক ডাউনের সময় তাঁকে কাজ হারিয়ে বাড়ি ফিরে আসতে হয়। কেটু বলেন, ‘সেই সময় এলাকাতেও কোনও কাজ পাইনি। সংসার চালানোর জন্য কিছুটা হটকারিতার বশেই এলকার একটি দোকানে চুরি করি। পরে ধরাও পড়ে যাই। পুলিস গ্রেপ্তার করে চুরির কেস না দিয়ে ‘ডাকাতির উদ্দেশ্যে ঘুরে বেড়ানোর অভিযোগে’ আমার নামে মিথ্যে কেস দিয়ে কোর্টে চালান করে। ওই সময় কেটু ৬২ দিন উপসংশোধনাগারে ছিলেন। কিন্তু করোনার সময় সরকারি নির্দেশে বিচারাধীন বন্দিদের ছেড়ে দেওয়া হয়। সেই সুবাদে কেটুও মুক্তি পেয়ে যান। কেটু মুক্তি পেলেও স্বস্তি পাননি। জেল থেকে বেরিয়ে আসার পর তাঁকে সবাই নানা ভাবে বিদ্রুপ করতে শুরু করে। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি। তাঁকে ফের যেন অসামাজিকতা হাতছানি দেয়। কেটু বলেন, ‘তখনই এক দিন নেশা করে আমারই এক পরিচিতর কাছ থেকে জোর করে কয়েক শ’ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছিলাম। সেবার আমাকে পুলিস বন্দুক রাখা এবং এক মহিলার কানের দুল ছিনতাই করার কেসে ট্যাগ করেছিল।’ কেটুর পুলিসের প্রতি ক্ষোভ, ওই সময় যার কানের দুল ছিনতাই হয়েছিল তিনি থানায় গিয়ে পুলিসকে বার বার জানিয়েছিলেন যে কেটু ছিনতাই করেনি। কিন্তু পুলিস সেই মহিলার কথা শোনেনি। দ্বিতীয়বার উপসংশোধনাগার থেকে বেরিয়ে ঠিক করি আর কখনও খারাপ কাজ করব না। এখন আমি ঠেলা গাড়িতে করে আইসক্রিম বিক্রি করে সংসার চালাই। কিন্তু পুলিস আমার পিছু ছাড়েনি। এলাকার কোনও চুরি হলেই পুলিস আমার বাড়িতে হামলা করে। বাড়ির দরজা ভেঙে আমাকে তুলে নিয়ে চলে যায়। বার বার বাড়িতে পুলিসি হানায় বছর তিনেক আগে কেটুর স্ত্রী ও পুত্র তাঁকে ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছেন। মাস দুই হল কেটু ফের বিয়ে করেছেন। নতুন স্ত্রী পুলিসের বার বার হামলা দেখে তিনিও কত দিন থাকবেন, তা নিয়ে চিন্তায় রয়েছেন কেটু।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন