কলকাতা: আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে বজ্রপাতসহ বৃষ্টি ও ঝড়ের সতর্ক বার্তা দিয়েছে আবহাওয়া দপ্তর। মধ্য বিহার থেকে ঝাড়খণ্ড হয়ে উত্তর ওড়িশার উপকূল পর্যন্ত নিম্নচাপ অক্ষরেখা রয়েছে। তার সঙ্গে অনুকূল বায়ুস্রোত ও বঙ্গোপসাগর থেকে বেশি মাত্রায় জলীয় বাষ্প বায়ুমণ্ডলে প্রবেশের জন্য বজ্রমেঘ সৃষ্টির প্রবণতা এখন বেশি থাকবে।
বর্ষাকাল শুরুর আগে, মার্চ-মে পর্যন্ত সময়ে বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে বৃষ্টি ও দমকা ঝোড়ো হাওয়ার পাশাপাশি বজ্রপাতের আশঙ্কা খুবই বেশি থাকে। এই বজ্রপাত নিয়েই বেশি উদ্বিগ্ন থাকে আবহাওয়া দপ্তর। প্রতিবছর দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে যত মৃত্যু হয়, তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি হয় বজ্রপাতের কারণে। পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে বজ্রপাতে বহু মৃত্যু প্রতিবছরই হয়। এই তালিকায় পশ্চিমবঙ্গ আছে। যদিও এই মরশুমে এখনও রাজ্যে বজ্রপাতে মৃত্যুর খবর নেই। কয়েকদিন আগে বজ্রপাতে বিহার ও উত্তরপ্রদেশ মিলিয়ে একদিনে ৮০ জন মারা গিয়েছেন।
আলিপুর আবহাওয়া অফিসের অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানান, এইসময় বজ্রপাত নিয়ে বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে হবে। বজ্রপাতের ব্যাপারে আবহাওয়া দপ্তর আগাম সাধারণ সতর্কবার্তা দেয়। কোন কোন জেলায় বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হতে পারে, তার সাধারণ পূর্বাভাস দেওয়া হয় অনেক আগে থেকেই। কিন্তু বজ্রপাত কোথায় হতে চলেছে, তার কিছুটা নির্দিষ্ট পূর্বাভাস সাধারণত কিছু আগে ইস্যু করা হয়।
আবহাওয়া অধিকর্তা জানান, স্থানীয় মানুষকে সতর্ক করার জন্য এই বার্তা বিভিন্ন এজেন্সির সঙ্গে রাজ্য সরকারের বিপর্যয় ব্যবস্থাপনা দপ্তরকেও তাঁরা জানান। কোন কোন স্থানে বজ্রপাতের আশঙ্কা আছে, আবহাওয়া দপ্তরের ‘দামিনি’ অ্যাপে সেটা দেখানো হয়। বজ্রপাতের ফলে মৃত্যু কমাতে সচেতন করাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কোনও জায়গায় বজ্রগর্ভ মেঘ সৃষ্টি হলে খোলা জায়গায় থাকা ঠিক নয়। বজ্রপাত শুরু হলে গাছের তলায় না দাঁড়িয়ে কোনও পাকা শক্তপোক্ত জায়গায় আশ্রয় নিতে হবে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন