কলকাতা: ভালোবাসেন বাঁশি শুনতে। মন কেমন করে ওঠে বাঁশির সুরে। যন্ত্রণাক্লিষ্ট মুখে মৃদু হাসি এনে চিকিৎসকদের সে-কথাই বলছিলেন হাওড়ার পারমিতা শতপথী (নাম পরিবর্তিত)। পারমিতাদেবীর ব্রেস্ট ক্যান্সার। কেমোথেরাপি চলছে। যখনই ক্যান্সার পেন হয়, যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকেন। বারবার মনে হয়, তাঁরই ভাগ্যে কেন এত কষ্ট! পারমিতাদেবীদের মতো অসুখবিসুখে জেরে ব্যথা-যন্ত্রণায় কাহিল রোগীদের কষ্ট কমাতে শিয়ালদহ ইএসআই হাসপাতাল চালু করল মিউজিক থেরাপি। প্রথম রোগিণী পারমিতাদেবীই।
গানের দল ‘একলব্য’র লিড সিঙ্গার ডাঃ পার্থসারথি
ভট্টাচার্য যোগ দিয়েছেন শিয়ালদহ ইএসআইতে। তাঁরই উদ্যোগে শুরু হয়েছে এই
থেরাপি। সুরের জাদুতে প্রথম দিনেই হয়েছে বাজিমাত। ব্যথার প্রকোপ কতটা,
জানতে আছে এক ধরনের ‘পেন স্কোর’। মিউজিক থেরাপি শুরুর আগে এই রোগিণীর পেন
স্কোর ছিল ৬। চিকিৎসকরা গান বা সুরের ক্ষেত্রে তাঁর পছন্দ-অপছন্দ জেনে
হেডফোনে বাঁশির সুর শোনান। ৪০ মিনিট ধরে চলে সেই থেরাপি।
ফলাফল?
চিকিৎসকদের পারমিতাদেবী বলেন, থেরাপিতে তাঁর ক্যান্সারের ব্যথা অনেকটাই
কমেছে। পেন স্কোর ৬ থেকে কমে হয়েছে ৩! শিয়ালদহ ইএসআই হাসপাতালের সুপার ডাঃ
অদিতি দাস বলেন, সদ্য মিউজিক থেরাপি শুরু করেছি আমরা। লক্ষ্য বিভিন্ন
রোগজনিত ব্যথাযন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিতে মানুষকে বিকল্প পথের সন্ধান দেওয়া।
থেরাপির জন্য দুটি বেডও রেখেছি আমরা। যাঁর তত্ত্ববধানে এই থেরাপি শুরু
হয়েছে, সেই চিকিৎসক পার্থসারথিবাবু বলেন, ক্যান্সার, অস্টিওআর্থ্রাইটিসসহ
বিভিন্ন ধরনের ক্রনিক পেনের রোগীদের মিউজিক থেরাপি দেওয়া হবে। বাড়িতে এর
প্রয়োগের জন্য আমরা মিউজিক প্রেসক্রিপশনও দেব।
কেমন হবে সেই মিউজিক
প্রেসক্রিপশন? দিনের কমবেশি ৪০ মিনিট পছন্দের মিউজিক শোনার কথা
প্রেসক্রিপশন থাকবে। কী ধরনের গান বা সুর শুনবেন রোগী, তারও উল্লেখ থাকবে
সেখানে।
চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, মানসিক অস্থিরতা কমাতে, ব্লাড প্রেশার
নিয়ন্ত্রণ রাখতে, অপারেশনকালে ব্যথা কমাতে পৃথিবী জুড়ে মিউজিক থেরাপির
ব্যবহার শুরু হয়েছে। দেখা গিয়েছে, পদন্দের গান বা সুরের মূর্ছনায় ডোপামিন
নামক হরমোন নিঃসৃত হয়। ক্রনিক ব্যথা কমে। চিকিৎসকদের দাবি, শুধুমাত্র
শারীরিক নয়, ইমোশনাল পেন কমাতেও এই পদ্ধতি কার্যকর।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন