নয়াদিল্লি: লোকসভা
ভোটে মহারাষ্ট্রে বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল বিজেপি তথা গোটা এনডিএ। অথচ
কয়েকমাস পর যখনই বিধানসভা ভোট হল, ফলাফল হয়ে গেল বিপরীত। কীভাবে সম্ভব?
আবার দিল্লিতে আপের ভরাডুবি হয়েছে। আসন সংখ্যায় বিজেপি অনেক এগিয়ে। অথচ দুই
শিবিরের ভোট-পার্থক্য মাত্র দেড় শতাংশ।
গত লোকসভা ভোটের পর এই দুই
রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে বিরোধীরা।
প্রতিটি ক্ষেত্রেই সন্দেহের তির আবর্তিত হচ্ছে একটি ফ্যাক্টরকে কেন্দ্র
করে—রাজ্যগুলিতে ভোটার সংখ্যা আচমকা এক ধাক্কায় বেড়ে যাওয়া। এবং ভোটের পর
প্রদত্ত ভোটের হার যা ছিল, সেটাই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লাফিয়ে বৃদ্ধি পাওয়া।
আর এর সঙ্গেই ফাঁস হয়েছে ডুপ্লিকেট ভোটার কার্ডের চক্র। বিরোধীদের এই
অভিযোগের সুরে এবার সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দিকে তোপ দাগলেন এক প্রাক্তন
নির্বাচন কমিশনারই। তিনি অশোক লাভাসা। মঙ্গলবার একটি সর্বভারতীয়
সংবাদমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে সাফ জানিয়েছেন, যে অভিযোগুলি উত্থাপিত হচ্ছে
সেগুলি অবশ্যই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রতিটি সন্দেহের পিছনে যুক্তি
আছে। তাই একের পর এক রাজ্যে কেন ঠিক ভোটের আগেই আচমকা ভোটারের সংখ্যা
বেড়ে গিয়েছে, তার তদন্ত পূর্ণাঙ্গভাবে হওয়া দরকার। নির্বাচন কমিশনের উচিত
এই ধোঁয়াশার আবরণ সরিয়ে স্বচ্ছতা প্রকাশ করা।
২০১৯ সালের লোকসভা
ভোটপর্বে নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহের বিরুদ্ধে আদর্শ আচরণবিধি ভঙ্গের অভিযোগ
উঠেছিল। তখন তিন নির্বাচন কমিশনারের মধ্যে একমাত্র লাভাসা ‘ক্লিনচিট’ দেননি
প্রধানমন্ত্রী-স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে। তার মূল্যও চোকাতে হয়েছে। তাঁর স্ত্রী
সহ পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নোটিস পাঠিয়েছিল আয়কর দপ্তর। সেই লাভাসা সরাসরি
কমিশনের দিকে আঙুল তোলায় অক্সিজেন পেয়েছে বিরোধীরা। প্রাক্তন নির্বাচন
কমিশনার আরও বলেছেন, ডুপ্লিকেট ভোটার কার্ড যে আছে এবং এটা একটা সমস্যা
সেকথা খোদ নির্বাচন কমিশনই স্বীকার করেছে। তাহলে ভোটার কার্ডে স্বচ্ছতা
ফেরানোর দায় ও দায়িত্ব এখন কমিশনেরই। তাঁর আরও প্রশ্ন, একই আধার কার্ড
দেখিয়ে একাধিক ভোটার কার্ড? নাকি একই ভোটার কার্ড নম্বর থাকা দু’জন
ব্যক্তি? এই দুই সমস্যাই কি আছে?
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন