ইসলামাবাদ: পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলার প্রেক্ষিতে ভারত ও পাকিস্তান সম্পর্কের উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। ভারতের রোষের মুখে পড়ে কাঁপছে পাকিস্তান। এই পরিস্থিতিতে ইসলামাবাদের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এল ‘অল ওয়েদার ফ্রেন্ড’ চীন। সূত্রের খবর, পাকিস্তানকে তাদের অত্যাধুনিক পিএল-১৫ এয়ার টু এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সহায়তা করেছে বেজিং। পাকিস্তানের জেএফ-১৭সি যুদ্ধ বিমানগুলিতে এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। রবিবার এক্স হ্যান্ডলে ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত জেএফ-১৭সি যুদ্ধ বিমানের ছবি প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। সমর বিশারদদের মতে, এই ছবির মাধ্যমে পাকিস্তান দু’টি নির্দিষ্ট বার্তা দিয়েছে। প্রথমত, যুদ্ধের জন্য তারা তৈরি। আর দ্বিতীয়ত, তাদের পাশে রয়েছে চীন।
রপ্তানির জন্য পিএল-১৫
ক্ষেপণাস্ত্রেরই পিএল-১৫ই সংস্করণ রয়েছে চীনের কাছে। পাকিস্তানকে যেটি
দেওয়া হয়েছে, সেটি লাল ফৌজের ব্যবহারের জন্য। আর তাতেই নানা সমস্যার মধ্যেও
নিজেদের বলীয়ান ভাবতে শুরু করেছে ইসলামাবাদ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জরুরি
ভিত্তিতে নিজেদের স্টক থেকে চীন পাকিস্তানকে এই সহায়তা করেছে। পঞ্চম
প্রজন্মের যুদ্ধ বিমান জে-২০তে এই পিএল-১৫ এয়ার টু এয়ার ক্ষেপণাস্ত্র
ব্যবহার করে বেজিং।
তবে যুদ্ধ বাধলে পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র ভারতের পক্ষে
বিশেষ ঝুঁকির নয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের যুক্তি, যুদ্ধক্ষেত্রে
উন্নত অস্ত্র অবশ্যই একটি বাড়তি সুবিধা দেবে। বিশেষ করে ২০০ থেকে ৩০০
কিলোমিটার দূরে আঘাত হানতে সক্ষম পিএল-১৫ ক্ষেপণাস্ত্র। তবে সেই
ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োগের ক্ষেত্রে পাকিস্তানের খামতি রয়েছে বলেই মনে করছেন
তাঁরা। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাকিস্তানের রেডার ব্যবস্থা ততটা উন্নত নয়।
প্রয়োজন দক্ষ পাইলটও। এরপরেও রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের সাপোর্ট
সিস্টেম। এই তিনক্ষেত্রে পাকিস্তান অনেকটা পিছিয়ে রয়েছে। অন্যদিকে, ভারতের
হাতে রয়েছে এসইউ-৩০এমকেআই যুদ্ধবিমান, রাফাল এবং মিরাজ ২০০০ যুদ্ধবিমান।
এগুলির প্রতিটিতেই রয়েছে মেটিওর, অস্ত্র এমকে২-র মতো বিভিআর ক্ষেপণাস্ত্র।
শুধু তাই নয়, ভারতীয় বায়ুসেনার যুদ্ধবিমানগুলির রেডার ব্যবস্থা পাকিস্তানের
থেকে অনেক বেশি উন্নত। যুদ্ধের জন্য প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রনিক সরঞ্জামও অনেক
বেশি আধুনিক।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন