ঢাকা: আশঙ্কাই সত্যি হল! মৌলবাদীদের চাপে বদলে গেল বাংলাদেশের মঙ্গল শোভাযাত্রার নাম। পয়লা বৈশাখে এবার যে শোভাযাত্রা হবে, তার নাম দেওয়া হয়েছে ‘বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা’। শুক্রবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের তরফে এই নাম পরিবর্তনের কথা ঘোষণা করা হয়। যদিও অনুষদের ডিন ডঃ মহম্মদ আজহারুল ইসলাম শেখ দাবি করেছেন, শুরুতে বর্ষবরণের এই অনুষ্ঠানের নাম ছিল আনন্দ শোভাযাত্রা। অন্যবারের চেয়ে এই বছরের শোভাযাত্রা আরও বড় আকারের হবে বলেও দাবি করেছেন তিনি। ডিন আরও জানিয়েছেন, ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’-এই বিষয়টিকে সামনে রেখে শোভাযাত্রায় বাংলাদেশের ২৮টি জনগোষ্ঠী অংশ নেবে।
ডিন সকলকে নিয়ে শোভাযাত্রার কথা বললেও বাস্তব অন্য কথা বলছে। বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, পয়লা বৈশাখের তিন দিন আগেও এবার চারুকলার শিক্ষক-পড়ুয়া ও শিল্পীদের মধ্যে চেনা ব্যস্ততা নেই। অন্যবার এক মাস আগে থেকেই শোভাযাত্রা নিয়ে কাজ শুরু হয়ে যেত। এবার তা হয়নি। শুক্রবারও হাতে গোনা কয়েকজন শিল্পীকেই কাজ করতে দেখা গিয়েছে। পড়ুয়াদের একাংশই জানিয়েছেন, এবারের শোভাযাত্রার প্রস্তুতিতে মহিলাদের অংশগ্রহণ কার্যত নেই। এরকম ‘প্রাণহীন’ চারুকলা অনুষদ আগে দেখা যায়নি।
১৯৮৯ সাল থেকে পয়লা বৈশাখে শোভাযাত্রার আয়োজন হয়ে আসছে। কয়েক বছর পরে বাংলাদেশে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন চলাকালীন এর নাম বদলে হয় ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’। ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ইউনেস্কো এই ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’কে বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে। মাসখানেক ধরেই ‘ইসলামি আন্দোলন’ সহ বিভিন্ন সংগঠন ও দল মঙ্গল শোভাযাত্রা নামটি নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা মোস্তাফা সরওয়ার ফারুকি গত মাসেই ইঙ্গিত দিয়েছিলেন শোভাযাত্রার নাম পবির্তন হতে পারে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এবারের শোভাযাত্রায় হাসিনা বিরোধী ‘জুলাই আন্দোলনে’র বিভিন্ন মোটিফ থাকবে। যদিও এই নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন