বিধাননগর: পাড়ার গলির ভিতর সরু রাস্তা। ভৌগলিক অবস্থান দেখেই পুলিস বুঝতে পেরেছিল, ট্রলিবন্দি দেহ গাড়িতে করে ফেলা হয়নি! বাইরে থেকে গাড়ি এলে দেখতে পেতেন, স্থানীয় বাসিন্দারা। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ থেকে বাগুইআটি কাণ্ডে মিলল নয়া তথ্য। পুলিস জানতে পেরেছে, ট্রলিবন্দি যুবতীর মৃতদেহ আনা হয়েছিল হেঁটেই। এক ব্যক্তিকে ট্রলি টেনে আনতেও দেখা গিয়েছে। ওই ‘সন্দেহভাজন’কে চিহ্নিত করে পুলিস তার খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে। এদিকে, যুবতীর পরণের পোশাক অক্ষত অবস্থাতেই ছিল। দেহে কোনও ক্ষতও ছিল না। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে পুলিস জানতে পেরেছে, বালিশ জাতীয় কিছু দিয়ে শ্বাসরোধ করেই খুন করা হয়েছে ওই যুবতীকে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার সকালে বাগুইআটি থানার প্রতিবেশি পাড়ায়
উদ্ধার হয় একটি ট্রলিব্যাগ। রাস্তার ধারে নালার পাশে পড়েছিল। সন্দেহ হওয়ায়
এলাকার বাসিন্দারাই পুলিসকে খবর দেন। পুলিস পৌঁছে ট্রলিব্যাগ খুলতেই ভিতর
থেকে উদ্ধার হয় এক যুবতীর মৃতদেহ!
নাম ও পরিচয় জানতে আশপাশের সমস্ত
কমিশনারেট এলাকায় যুবতীর মৃতদেহের ছবি পাঠানো হয়। একটি সূত্র মিললেও,
বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বছর ৩০-৩৫ ওই যুবতীর পরিচয় মেলেনি। পুলিস জানিয়েছে,
যুবতীকে খুনের পরই দেহ ট্রলিব্যাগে ভরা হয়েছিল। কারণ, দেরি করলেই দেহ শক্ত
হয়ে যেত। ট্রলির মধ্যে একপাশে কাত করা অবস্থায় দেহটি ভরা হয়েছিল।
মঙ্গলবারই এলাকার সমস্ত সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিস। সব
ফুটেজগুলি খতিয়ে দেখা হয়। তার মধ্যে একটি ফুটেজেই মেলে দেহ লোপাটের ছবি।
একজন প্রতিবেশী পাড়ার ভিতর দিয়ে ওই ট্রলিব্যাগ টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ওই
ব্যক্তির আগে ও পরে দু’টি বাইকে দু’জনকে দেখা গিয়েছে। তবে, ওই বাইকে তাকে
চাপতে দেখা যায়নি। ওই বাইককে থাকা লোকজনও এই ঘটনায় যুক্ত কি না, তাও খতিয়ে
দেখা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি কুমোরটুলি ঘাটে
ট্রলিব্যাগের ভিতর থেকে এক মহিলার দেহ উদ্ধার হয়েছিল। বাগুইআটিতে রাস্তার
ধারে ট্রলি পড়ে থাকতে অনেকেই ভেবেছিলেন, ভিতরে দেহ নেই তো! সেই আশঙ্কা
সত্যি হতেই এলাকার সকলেই হতবাক। কারণ, এই এলাকায় অতীতে কোনওদিন এই ধরনের
ঘটনা ঘটেনি। এত জায়গা থাকতে কেন এই প্রতিবেশি পাড়ায় দেহ ফেলা হল, তা নিয়েও
অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের কথায়, তাহলে কী এই পাড়ায়
খুনিদের যাতায়াত ছিল? নিরাপদ বুঝেই ফেলে দিয়ে গিয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন