কলকাতা: ওয়াকফ সংশোধনী বিলকে ‘শিখণ্ডী’ করে মুর্শিদাবাদের বিস্তীর্ণ অংশে হিংসা ছড়িয়েছিল কট্টরপন্থী মৌলবাদী সংগঠন। নেপথ্য কারিগর হিসেবে মুর্শিদাবাদ, মালদহে ও পাকুড়ের আটটি সংগঠনকে চিহ্নিত করেছে হিংসার তদন্তে গঠিত সিটের টিম। টাকা ছড়ানো থেকে গোলমাল পাকানোর জন্য লোক জড়ো করার কাজ তারাই করেছিল। এই সংগঠনগুলির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বাংলাদেশ যোগের বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছেন তদন্তকারীরা। এদিকে ঘটনার পর মুর্শিদাবাদ ও জঙ্গিপুর পুলিস জেলার দুই পুলিস সুপারকে শুক্রবার সরিয়ে দিয়েছে নবান্ন।
সূতি, সামশেরগঞ্জ ও ধুলিয়ানের বিস্তীর্ণ অংশে হিংসা ছড়ানোর নেপথ্যে কে বা কারা ছিল, জানতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে একাধিক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করা হয়। ওড়িশার ঝাড়সাগুদা থকে গ্রেপ্তার করা হয় ছয়জনকে। হামলায় পুরোভাগে নেতৃত্ব দেওয়া আরও বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে সিট। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও ডিজিটাল ফুটপ্রিন্টের ভিত্তিতে তদন্তকারীর জানতে পারছেন, এর পিছনে কট্টরপন্থী মৌলবাদী সংগঠন ছিল। যাদের সদস্যরা অনেকদিন আগে থেকেই সুতি, শামশেরগঞ্জ ও ধুলিয়ানে ঘাঁটি গেড়েছিল। ধুলিয়ানে থাকা বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের স্লিপার সেলের সদস্যদের এককাট্টা করে তাদের উদ্বুব্ধ করে, ওয়াকফ সংশোধনী বিল নিয়ে হিংসা ছড়ানোর। তারজন্য লোকজন জড়ো করে জঙ্গি কায়দায় বিক্ষোভ চলবে। পুলিস বাধা দিলে বা আন্দোলন আটকানোর চেষ্টা করলে, তাদের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। পুলিসকে খুন করার পরিকল্পনাও ছিল। এর সঙ্গে কট্টরপন্থী মৌলবাদী সংগঠনের প্রতি সহানুভুতিশীল লোকজনকেও তারা নিজেদের দলে টেনেছিল। এই সংগঠনগুলির নির্দেশ মতোই বিভিন্ন জায়গায় লোকজন জড়ো হয়। বিক্ষোভের নামে অশান্তি শুরু করে তারা।
ধৃতদের মোবাইলের কল ডিটেইলস ঘেঁটে বেশ কিছু সন্দেহভাজন নম্বরকে চিহ্নিত করেন তদন্তকারীরা। সেগুলি বিশ্লেষণ করে তাঁরা দেখেন, নম্বরগুলি মাস খানেক আগে চালু হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তির নথি জমা করে সিমগুলি তুলেছে মৌলবাদী সংগঠনের সদস্যরা। তাদের নাম পরিচয়সহ বিস্তারিত তথ্য সামনে আসে সিটের। জানা যায়, মুর্শিদাবাদ, মালদহে ও পাকুড়ের সংগঠন রয়েছে তাদের। বিক্ষোভের নামে হিংসা ছড়ানোর জন্য এক একজনকে ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা করে দেওয়া হয়। এ সংক্রান্ত নির্দিষ্ট প্রমাণ মিলেছে। এই মৌলবাদী সংগঠনগুলির নেতাদের সঙ্গে বাংলাদেশের যে সমস্ত সংগঠনের যোগাযোগ ছিল, তাদের নেতাদের নাম পরিচয় জানার চেষ্টা হচ্ছে।
এদিকে মুর্শিদাবাদ কাণ্ডের পর জঙ্গিপুর পুলিস জেলার এসপি আনন্দ রায় ও মুর্শিদাবাদের এসপি সুর্যপ্রতাপ যাদবকে বদলি করে যথাক্রমে ইএফআর ও নারায়নী ব্যাটালিয়নে পাঠানো হয়েছে। জঙ্গিপুরে নতুন এসপি হচ্ছেন কলকাত পুলিসের দক্ষিণ বিভাগের ডিসি (ট্রাফিক) সাউ কুমার অমিত এবং মুর্শিদাবাদের পুলিস সুপার হচ্ছেন রানাঘাটের এসপি কুমার সানি রাজ। রানাঘাটের নতুন পুলিস সুপার হচ্ছেন আশিস মৌর্য।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন