তেহট্ট: শনিবার সকাল তখন সাড়ে ৯টা। কাশ্মীরে জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে শহিদ হওয়া বীর জওয়ান ঝন্টু আলি শেখের কফিনবন্দি দেহ নিয়ে আসা হল তাঁর নিজের গ্রাম তেহট্ট থানার পাথরঘাটায়। শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তাঁর প্রিয় ঈদগাহ মাঠেই বাঁধা হয় মঞ্চ। সেখানেই রাখা হয় মরদেহ। ভারত মাতার বীর সন্তানকে চোখের জলে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তখন সেখানে হাজারো মানুষের ভিড়। সেনাবাহিনীর তরফে গান স্যালুট দেওয়া হয়। স্লোগান উঠল, ‘ভারত মাতা কি জয়। শহিদ ঝন্টু আলি শেখ অমর রহে’।
শুক্রবার বীর জওয়ানের দেহ ময়নাতদন্তের পর দিল্লি নিয়ে যাওয়া
হয়। সেখান থেকে শুক্রবার রাতে দমদম বিমানবন্দরে দেহ পৌঁছয়। তারপর শহিদ
জওয়ানের কফিনবন্দি দেহ ব্যারাকপুর সেনা হাসপাতালে আনা হয়। এদিন সকালে সেখান
থেকেই পাথরঘাটায় দেহ নিয়ে আসা হয়। এদিন সকালে ঝন্টু আলি শেখের দেহ প্রথমে
তাঁর নিজের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তখন হাজার হাজার মানুষের ভিড়।
এলাকার মহিলারা হাউ হাউ করে কাঁদছেন। সকলেই তাঁদের প্রিয় ঝন্টুকে একবার শেষ
দেখা দেখতে চান।
বাড়িতে কফিন নামানোর সঙ্গে সঙ্গে শহিদের বাবা শবুর
আলি, স্ত্রী শাহনাজ পারভিন, ছেলেমেয়ে, আত্মীয়রা পাগলের মতো কাঁদতে থাকেন।
আত্মীয়স্বজনরা শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর সামাজিক রীতি মেনে দেহ স্নান করানো
হয়। এরপর শহিদের দেহ নিয়ে যাওয়া হয় ঈদগাহ ময়দানে। স্থানীয় যুবকরা জাতীয়
পতাকা হাতে আগে আগে মিছিল করে এগিয়ে চলেন। রাস্তার দু’দিকে হাজার হাজার
মানুষ ফুল ছুড়ে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
ঈদগাহ ময়দানে শহিদের দেহ
রাখার পর বীর জওয়ানকে শেষ শ্রদ্ধা জানান সাংসদ মহুয়া মৈত্র, বিধায়ক তাপস
সাহা সহ পুলিস, প্রশাসন ও সেনা আধিকারিকরা। হাজির ছিল এলাকার অগণিত মানুষ।
তাঁরা সকলেই বৃহস্পতিবার কাশ্মীরের উধমপুরে জঙ্গিদের সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে
নিহত ঝন্টু আলি শেখকে একবার চোখের দেখা দেখতে চান।
শহিদ ঝন্টু আলি
শেখের স্ত্রী বলেন, আমার সব শেষ হয়ে গেল। চরম ক্ষতি হল। আমার স্বামীকে
জঙ্গিরা গুলি করে মেরেছে। এর বদলা চাই। জঙ্গিরা যেন রেহাই না পায়।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন