চণ্ডীগড়: ‘খুব কষ্ট হচ্ছে। মাকে ছেড়ে থাকতে পারব না’। চোখ দিয়ে জল গড়াচ্ছে। কাঁদতে কাঁদতে একথাই বলে চলেছে জৈনাব (১১) ও জেনিস (৮)। সীমান্তের কাঁটাতারে ক্ষতবিক্ষত মা ও দুই সন্তানের সম্পর্কের বন্ধন। পহেলগাঁওতে জঙ্গি হামলার পর ভারত-পাক সম্পর্কের তিক্ততা আরও বেড়েছে। দুই দেশের মধ্যে শুরু হয়ে গিয়েছে ‘ঠান্ডাযুদ্ধ’। এই টানাপোড়েনের জেরে মায়ের কোল ছেড়ে দেশে ফিরে যেতে হল ওই দুই পাকিস্তানি শিশুকে। রবিবার তাদেরকে নিয়ে পাঞ্জাব সীমান্ত ধরে পাকিস্তানে রওনা দেয় গাড়ি। এপারেই থেকে যেতে হয়েছে তাদের মাকে। কারণ, তিনি ভারতীয় নাগরিক।
গতমাসে
দিল্লির মামাবাড়িতে দিদার সঙ্গে দেখা করতে মায়ের সঙ্গে পাকিস্তান থেকে
এসেছিল জৈনাব ও জেনিস। এরইমাঝে কাশ্মীরের পহেলগাঁওতে লস্কর জঙ্গিদের নারকীয়
হামলার ঘটনা ঘটে। এহেন পরিস্থিতিতে তড়িঘড়ি এদেশে থাকা পাক নাগরিকদের ভিসা
বাতিল করে তাদের দ্রুত দেশ ছাড়তে বলেছে বিদেশ মন্ত্রক। বন্ধ করে দেওয়া
হয়েছে আটারি সীমান্ত। ফলে বেকায়দায় পড়ে যায় দুই খুদে। কারণ তারা
পাকিস্তানের নাগরিক। আর মা ভারতীয়। বাধ্য হয়েই মা’কে দিল্লিতে রেখে
পাকিস্তানে ফিরে যেতে হয়েছে তাদের।
যাওয়ার আগে অবুঝ জৈনাবের গলায়
অভিমান। কান্নাভেজা গলায় সে বলে, ‘কতো করে মাকে বললাম আমাদের সঙ্গে আসতে।
মা সরকারের কীসব নির্দেশের কথা বলল। কিছু করার নেই।’ সে আরও বলেছে,
‘জঙ্গিদের কঠোর শাস্তি দেওয়া হোক। কিন্তু আমাদের তো কোনও দোষ নেই। আমাদের
যেন আর এভাবে সমস্যায় পড়তে না হয়।’ দিদির পাশে চুপটি করে বসেছিল ছোট বোন
জেনিস। হঠাৎ তার গলায় ঝরে পড়ে আর্তি - ‘কখনও মাকে ছেড়ে থাকিনি। দয়া করে
মাকে পাকিস্তানে যেতে দেওয়া হোক।’ রবিবার পাক নাগরিকদের দেশে ফেরার সময়সীমা
শেষ হয়েছে। গত চারদিনে ওয়াঘা সীমান্ত দিয়ে ৫৩৭ জন পাক নাগরিক দেশে
ফিরেছেন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন