নয়াদিল্লি: গত বছরে তথাকথিত ছাত্রছাত্রীদের আগস্ট বিপ্লবের পর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রশাসক মহম্মদ ইউনুস ভারত বিরোধী হুঙ্কার দিয়ে বাংলাদেশকে চীনবন্ধু প্রমাণের মরিয়া বার্তা দিয়ে চলেছেন। ভারত বিরোধী স্লোগান, মিছিল, হুঙ্কারকে পরোক্ষে সমর্থন করে এসেছেন। কেন ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে, সেই কৈফিয়ত চেয়েছেন দফায় দফায়। কিন্তু প্রাথমিক সেই উৎসাহের পর যখন দেখা গিয়েছে, বাংলাদেশের অর্থনীতির অবস্থা বিপর্যস্ত। আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ছে এবং ক্রমেই সামরিক বাহিনীর আগ্রাসী ভূমিকা প্রকট হয়ে উঠছে, তখনই আচমকা ইউনুস ভারতের সঙ্গে আলোচনায় বসতে চেয়েছেন। গত মাসে সরকারিভাবেই ইউনুস বার্তা দিয়েছেন যে, তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করতে চান। ঢাকায় হুঙ্কারের পর থাইল্যান্ডে শুক্রবার নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকের সময় সুর আরও নরম ইউনুসের। বিএনপি, জামাত কিংবা ছাত্র শিবিরের কাছে মুখরক্ষা করতে হবে বলে নাম কা ওয়াস্তে বললেন, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করুক ভারত। কিন্তু বাকি সবই তাঁর মরিয়া দরবার, সম্পর্ক স্বাভাবিক করার। তিস্তা জল বণ্টন, গঙ্গা জল বণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরণ,পণ্য বাণিজ্য, সীমান্ত জটিলতার সমাধান, যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক ডাকা, ইত্যাদি তাবৎ ইস্যুকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরানোর আবেদন করলেন ইউনুস। যা দেখে কূটনৈতিক মহলের ধারণা, ভারতের সঙ্গে নির্বাচিত সরকারের সবরকম এজেন্ডা নিয়ে আলোচনা করতে চেয়ে আসলে তাঁর অন্তর্বর্তী সরকারের বৈধতা ও স্বীকৃতি আদায় করতেই তৎপর হচ্ছেন ইউনুস। প্রধানমন্ত্রী মোদি ইউনুসকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে বিনষ্ট করবে, এমন কোনও মন্তব্য করা উচিত নয়। বস্তুত, উত্তর-পূর্বের সাত রাজ্য নিয়ে ইউনুসের সাম্প্রতিক মন্তব্যের প্রেক্ষিতেই মোদির এই সতর্কবাণী। আলোচনায় মোদি প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বিশেষ করে হিন্দুদের উপর এত অত্যাচার চলছে কেন? তিনি বলেন, প্রথমত ওই অত্যাচার বন্ধ করতে হবে। এতদিন ধরে যে অত্যাচার হয়েছে তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির বিধান করা উচিত।
অন্যদিকে, মহম্মদ ইউনূসের উত্থাপিত অন্যতম ইস্যু শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে কোনও প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি। বস্তুত তিস্তা অথবা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য নিয়ে আদৌ ভারত ভাবছে কি না,তা নিয়েও কূটনৈতিক মহলের সংশয় রয়েছে। কারণ ভারতের প্রধান অবস্থান হল নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ইস্যুর আলোচনা হবে। সুতরাং বৈঠকে রাজি হলেও ইউনুসকে মোদির পরোক্ষ বার্তা হল, আগে নির্বাচন করুন।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন