কলকাতা: ৮
ম্যাচে মাত্র ৩টি জয়। ৬ পয়েন্ট নিয়ে কলকাতা নাইট রাইডার্স আপাতত সপ্তম
স্থানে। বাকি ৬টির মধ্যে কমপক্ষে জিততে হবে ৫টিতে। তবেই মিলতে পারে
প্লে-অফের টিকিট। কাজটা মোটেও সহজ নয়। এর মধ্যে হারের হ্যাটট্রিকের আতঙ্ক
চেপে বসেছে শিবিরে। শনিবার ইডেনে শ্রেয়সের পাঞ্জাব কিংসের বিরুদ্ধে মাঠে
নামার আগে দলের ক্ষত সারানোর কাজ চলবে। কিন্তু তাতেও খুব এক একটা লাভ হবে
বলে মনে হয় না।
আসলে খেতাব ধরে রাখার লড়াইয়ে নাইটদের পিছিয়ে পড়ার
স্ক্রিপ্ট লেখা হয়ে গিয়েছিল নিলামেই। ফিল সল্টের মতো মারকুটে ব্যাটারকে
ছেড়ে দেওয়া ভুল। মিচেল স্টার্কের জন্যও ঝাঁপানো উচিত ছিল। এই দুই
ক্রিকেটার হয়তো এখনও পর্যন্ত সেভাবে জ্বলে উঠতে পারেননি ঠিকই, কিন্তু
চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য ছিলেন তাঁরা। কোর টিম ভেঙে গেলে তা জোড়া দেওয়া
কঠিন হয়ে ওঠে। তার উপর যখন বিজয়ী ক্যাপ্টেনকে ছেড়ে দেওয়া হয়, তখন আস্থা টলে
যায় দলের। শ্রেয়স আয়ারের না থাকার অভাব হাড়ে হাড়ে এখন টের পাওয়া যাচ্ছে।
আইপিএলের
মাঝপথে সহকারী কোচ হিসেবে কেকেআর শিবিরে যোগ দিয়েছেন অভিষেক নায়ার।
সাপোর্ট স্টাফের সংখ্যা এখন ক্রিকেটারদের থেকে বেশি। কার দায়িত্ব কী, সেটা
অনেক সময় বোঝা যায় না। তবে একজন জাঁদরেল কোচ খুব প্রয়োজন ছিল এই
মুহূর্তে। যাঁর ম্যাচ রিডিং হবে দুর্দান্ত। ক্রিকেটারদের অনুশাসনের বেঁধে
রাখার ব্যাপারেও হবে দক্ষ। যেটা চন্দ্রকান্ত পণ্ডিতের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে
না।
আইপিএল শুধু তারকাদের মঞ্চ নয়, সেখানে ঘটে নতুন নতুন তারার উদয়ও।
সেটা অন্য দলগুলি বুঝলেও কেকেআর টিম ম্যানেজমেন্ট অনুধাবন করতে ব্যর্থ।
নামের প্রতি ছুটে বেড়াতে গিয়ে দলকে বিপদে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। একটা সময় ইউসুফ
পাঠান খারাপ পারফর্ম করেও নিয়মিত খেলে যেতেন। কারণ তিনি ছিলেন শাহরুখের
প্রিয় পাত্র। এখন রাসেলের অবস্থা সেরকমই। না বলে, না ব্যাটে— কিছুই করতে
পারছেন না ক্যারিবিয়ান তারকা। আট ম্যাচে ঝুলিতে মাত্র ৫৫ রান। মাত্র ছ’টার
ওভার বাউন্ডারি হাঁকিয়েছেন। একটা সময় ‘দ্রে রাস’ মাঠে নামা মানেই বিপক্ষ
শিবিরে কম্পন শুরু। বোলাররা বুঝতে পারতেন না কোথায় বল ফেলবেন। কিন্তু সবই
এখন সোনালী অতীত। রাসেল ছত্রিশের ‘বৃদ্ধ’। সোমবার ইডেনে গুজরাতের
বিরুদ্ধে তাঁকে নামানো হয়েছিল ঝোড়ো ব্যাটিং পালে হাওয়ার টানার জন্য।
কিন্তু ১৫ বলে ২১ রান করেই মাঠ ছাড়তে হয় রাসেলকে। তাও কিনা রশিদ খানের বলে
আউট হয়ে। আসলে লেগ স্পিনারদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যর্থ তিনি। পরিসংখ্যান
বলছে, ২১বার রাসেল আউট হয়েছেন স্পিনের বিরুদ্ধে। তার মধ্যে ১৪ বার শিকার
লেগ স্পিনারের। রাসেলকে বসিয়ে রভম্যান পাওালকে খেলানোর দাবি উঠছে। কি
ভাবছেন রাহানে? কেকেআর ক্যাপ্টেনের জবাব, ‘কোন দলের বিরুদ্ধে কোথায় খেলা
হচ্ছে, তার উপর নির্ভর করে তৈরি হয় কম্বিনেশন। রভম্যানকে কেন খেলানো হচ্ছে
না বলা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এটা টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত।’
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন