রামপুরহাট: ৩০টাকার লটারি কেটে রাতারাতি কোটিপতি হলেন মল্লারপুরের এক পরিযায়ী শ্রমিক। রেজাল্টের সঙ্গে নিজের টিকিটের নম্বর মিলতেই সরাসরি থানায় হাজির হলেন ‘কোটিপতি’ শ্রমিক। পুলিসকর্মীদের জানান, টিকিট না ভাঙানো পর্যন্ত তিনি থানাতেই থাকতে চান। সবকিছু শুনে পুলিস তাঁকে থানায় থাকার অনুমতি দেয়। তাঁর নিরাপত্তার আশ্বাসও দেয়।
পুলিস ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর
আঠাশের ওই শ্রমিকের নাম সঞ্জয় বাদ্যকর। বাড়ি মল্লারপুরের বাহিনা গ্রামে।
তিনি চেন্নাইয়ে রাজমিস্ত্রির শ্রমিকের কাজ করেন। ৪০দিন পর সেখান থেকেই
ট্রেন ধরে বাড়ি ফিরছিলেন। সাঁইথিয়ায় বোনের বাড়ি হওয়ায় তিনি বোলপুর
স্টেশনে নামেন। ট্রেন আসতে দেরি থাকায় স্টেশনের বাইরে চা খেতে এসে ৩০টাকা
দিয়ে পাঁচসেমের টিকিট কাটেন সঞ্জয়। এরপর বোনের বাড়ি ঘুরে রাতে মল্লারপুরে
এসে রেজাল্ট মেলাতে বসেন তিনি। টিকিট মেলাতেই দেখেন এক কোটি টাকা জিতেছেন।
মনে ভয়, জানতে পেরে যদি কেউ টিকিটটি কেড়ে নেয়! তাই পাঁচ কান হওয়ার আগেই
তিনি সোজা মল্লারপুর থানায় এসে আশ্রয় নেন।
সঞ্জয় বলেন, ভাগ্যের চাকা
ঘোরার আশায় মাঝেমধ্যে লটারির টিকিট কাটতাম। তবে এক কোটি টাকা পাব, ভাবিনি।
আমি কেন, আমার পরিবারের কেউ কোনওদিন তা ভাবেনি। তাই কোটি টাকা পেয়েছি
জানতে পেরে যেমন আনন্দ হচ্ছিল, তেমনি ঘাবড়েও গিয়েছিলাম। পাছে কোনও অঘটন
ঘটে, তাই ঝুঁকি না নিয়ে লটারির টিকিট হাতে সোজা থানায় চলে এসেছি। সব কথা
জানাতেই, পুলিস থানায় থাকার অনুমতি দেয়। পুলিস জানায়, ওই যুবক লটারিতে এক
কোটি টাকা জেতার খবর পেয়ে থানায় নিরাপত্তার জন্য এসেছেন। তাঁর নিরাপত্তার
ব্যবস্থা করা হয়েছে। সঞ্জয় আরও বলেন, এই টাকায় পাকা বাড়ি করব। জমিজমা কিনব।
বাকি টাকা ভবিষ্যতের জন্য ব্যাঙ্কে জমিয়ে রাখব। আর ভিনরাজ্যে শ্রমিকের
কাজে যাব না। এখানেই কোনও ব্যবসা শুরু করব।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন