নয়াদিল্লি: পরিকাঠামো ব্যবহার নিয়ে বিএসএনএলের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল রিলায়েন্স জিওর। কিন্তু চুক্তি মোতাবেক প্রাপ্য অর্থের বিলই পাঠায়নি খুঁড়িয়ে চলা এই রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিকম সংস্থা! দু’-এক বছর নয়, এই গাফিলতি চলেছে টানা ১০ বছর ধরে। এর জেরে সরকারি কোষাগারে ১ হাজার ৭৫৭.৫৬ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে। মঙ্গলবার কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (ক্যাগ) একটি রিপোর্টে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে । সেই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই শোরগোল পড়ে গিয়েছে। ক্যাগের রিপোর্টে জানানো হয়েছে, প্যাসিভ ইনফ্রাস্ট্রাকচার শেয়ারিং নিয়ে দুই টেলিকম সংস্থার চুক্তি হয়েছিল। এই চুক্তি অনুসারে টাওয়ার, ফাইবার ও অন্যান্য নেটওয়ার্ক ব্যবহারের জন্য বেসরকারি টেলিকম সংস্থার কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের কথা বিএসএনএলের। কিন্তু ২০১৪ সালের মে মাস থেকে দশ বছর কোনও বিলই পাঠায়নি বিএসএনএল। এর ফলে ২০১৪ সালের মার্চ থেকে ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত সরকারি কোষাগারের ১,৭৫৭.৫৬ কোটি টাকা লোকসান হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জরিমানা বাবদ সুদের ক্ষতিও।
ঢিলেঢালা মনোভাবের এখানেই শেষ নয়। রিলায়েন্স জিও ছাড়াও অন্য টেলিকম ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রোভাইডারদের সঙ্গেও রাজস্বের ভাগ নিয়ে চুক্তি হয়েছিল বিএসএনএলের। এই চুক্তি অনুসারে, লাইসেন্স ফি আদায়ের কথা ছিল। তা জমা পড়ত সরকারের সিন্দুকেই। কিন্তু সেই ফি আদায়েও ব্যর্থ হয়েছে তারা। এর ফলে সরকারকে অতিরিক্ত ৩৮ কোটি ৩৬ লক্ষ টাকা হারাতে হয়েছে। এই জোড়া গাফিলতিতেই সরকারের প্রায় ১৮০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।
ক্যাগ বলেছে, রিলায়েন্স জিও-র সঙ্গে মাস্টার সার্ভিস চুক্তি (এমএসএ) কার্যকর করতে পারেনি বিএসএনএল। প্যাসিভ ইনফ্রাস্ট্রাকচারের জন্য অতিরিক্ত প্রযুক্তি ব্যবহারের বিলও পাঠানো হয়নি। এছাড়াও প্যাসিভ ইনফ্রাস্ট্রাকচার শেয়ারিং চার্জও সঠিকভাবে হিসেবও করা হয়নি বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। ক্যাগ আরও বলেছে, রিলায়েন্স জিও-র সঙ্গে এমএসএ চুক্তির শর্তাবলি যথাযথভাবে কার্যকর করতে ব্যর্থ হয়েছে বিএসএনএল। সেইসঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো ব্যবহারের দাম বৃদ্ধির সংক্রান্ত ধারাও কার্যকর করা হয়নি। এর ফলে ইনফ্রাস্ট্রাকচার শেয়ারিংয়ের চার্জ সংক্রান্ত ২৯ কোটি টাকা ডুবেছে।
উল্লেখ্য, বেসরকারি টেলিকম সংস্থাগুলির দাপটে নাভিশ্বাস উঠেছে বিএসএনএলের। বিএসএনএলের পুনরুজ্জীবনে সরকারের বিরুদ্ধে উদাসীনতারও অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে, রিলায়েন্স জিও এখন দেশে শীর্ষ টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারী সংস্থা হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে বিএসএনএল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি ও দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন