কলকাতা: প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের সুপ্রিম নির্দেশ আসার পর বঙ্গের রাজনীতির পারদ ক্রমেই চড়তে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবারের পর শুক্রবারও দিনভর রাজনীতির কারবারিদের চর্চায় উঠে এসেছে শিক্ষকদের চাকরি যাওয়ার প্রসঙ্গ। সেখানে রাজ্য সরকারকে একযোগে নিশানা করে চলেছে বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেস। তৃণমূলের পাল্টা বক্তব্য, বিরোধীরা কুৎসা-অপপ্রচার করছে। এই আবহে তামাম রাজনৈতিক মহলের নজর এখন আগামী সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে বৈঠকের দিকে। ওইদিন চাকরিহারাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেদিন মমতা কী বার্তা দেন, তার দিকেই কৌতূহল সকলের। এমনকী তৃণমূল শিবিরও তাকিয়ে রয়েছে ৭ এপ্রিলের সভার দিকে। মনে করা হচ্ছে যে, মমতার বক্তব্যের মধ্যে দিয়ে পরবর্তী দিক নির্দেশিকা উঠে আসবে ওইদিন।
এদিকে রাজ্য সরকারকে চড়া সুরে আক্রমণ জারি রেখেছে বিরোধীরা। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার, সিপিএম রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকারের নিশানায় পড়েছে তৃণমূল পরিচালিত রাজ্য সরকার। বিরোধীদের মূল বক্তব্য, বারবার যোগ্য-অযোগ্য বাছাই করতে বলা হলেও কমিশন বা রাজ্য সরকার সেই দায়িত্ব নেয়নি। দুর্নীতি করে যারা চাকরি পেয়েছে, তাদের আড়াল করেছে সরকার। এর ফলে যোগ্যদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত অন্ধকারে পাঠিয়ে দিয়েছে রাজ্য।
কিন্তু বিরোধীরা সরব হলেও তৃণমূল এখানে সিপিএম ও বিজেপির ‘ষড়যন্ত্র’ দেখছে। জোড়াফুল শিবিরের বক্তব্য, কুৎসার রাজনীতি করছে বিরোধীরা। তৃণমূলের রাজ্য সহসভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদার বলেন, আমরা যোগ্য শিক্ষকদের পাশে আছি। মুখ্যমন্ত্রী সেকথা জানিয়ে দিয়েছেন। আরও সুস্পষ্ট বার্তা আগামী সোমবার নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়াম থেকে উঠে আসবে বলে আমাদের ধারণা। তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, যোগ্যরা হয়রানির মধ্যে পড়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী নিশ্চিতভাবে সহানুভূতিশীল। আইনি ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মুখ্যমন্ত্রী নিচ্ছেন। সকলে মুখ্যমন্ত্রীর উপর আস্থা রাখুন।
তবে তৃণমূল এটাও তুলে ধরেছে, বিকৃতভাবে অপপ্রচার করছে বিরোধীরা। সিপিএম, বিজেপি একযোগে বাংলার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে চলেছে। এখানে তৃণমূল টেনে এনেছে ত্রিপুরা রাজ্যের প্রসঙ্গ। তাতে জোড়াফুল শিবিরের বক্তব্য, ত্রিপুরা রাজ্যে সিপিএম জমানায় অনিয়মে ১০,৩২৩ জন শিক্ষকের চাকরি চলে গিয়েছিল। বিজেপি বিকল্প ব্যবস্থা করে দেবে বলেও কিছু করেনি। বিজেপি এখানে সাধু সেজে বড় বড় কথা বলছে। আর আজ সিপিএম দ্বিচারিতা করছে। বাম আমলে চিরকুটে লিখে চাকরি দেওয়ার কাহিনি সকলের জানা। অন্যদিকে রবিবার রামনবমী নিয়ে সতর্ক রয়েছে তৃণমূল। যেখানে জোড়াফুল শিবিরের বক্তব্য, ধর্মের আবেগকে ব্যবহার করে পলিটিক্যাল ইভেন্ট করতে যাচ্ছে বিজেপি।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন