এলাহাবাদ: নাবালিকার বক্ষদেশ স্পর্শ, পাজামার দড়ি ছিঁড়ে দেওয়া ধর্ষণের চেষ্টা নয়। সম্প্রতি একটি মামলায় এমনই মন্তব্য করেছিলেন এলাহাবাদ হাইকোর্টের এক বিচারপতি। ওই মন্তব্যকে অসংবেদনশীল বলে উল্লেখ করে সুপ্রিম কোর্ট। এবার অন্য একটি ধর্ষণ মামলায় নির্যাতিতাকে দায়ী করে অভিযুক্তর জামিন মঞ্জুর করলেন এলাহাবাদ হাইকোর্টেরই এক বিচারপতি। তাঁর পর্যবেক্ষণ, নির্যাতিতাই নিজেকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন। গোটা ঘটনার জন্য তিনিই দায়ী।
আদালত সূত্রে খবর, গত বছরের সেপ্টেম্বরে স্নাতকোত্তরের এক ছাত্রী তাঁর বন্ধুর বিরুদ্ধের ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেন। ঘটনার দিন রাতে বান্ধবীদের সঙ্গে দিল্লির রেস্তরাঁতে গিয়েছিলেন নয়ডার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই পড়ুয়া। সেখানে রাত তিনটে পর্যন্ত মদ্যপান করেন তাঁরা। সেখানে কয়েকজন পুরুষ বন্ধুর সঙ্গে দেখা হয় নির্যাতিতার। মদ্যপ অবস্থায় দিল্লিতে যেখানে পেয়িং গেস্ট থাকতেন, সেখানে ফেরা তরুণীর পক্ষে সম্ভব ছিল না। এই অবস্থায় অভিযুক্ত তরুণীকে তাঁর বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন। অভিযুক্ত তাঁকে নিজের বাড়ির বদলে এক আত্মীয় ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে দু’বার ধর্ষণ করে বলে দাবি করেছেন নির্যাতিতা। মামলার শুনানিতে বিচারপতি সঞ্জয়কুমার সিং জানিয়েছেন, অভিযোগ ধোপে টিকছে না এবং এর সপক্ষে প্রমাণও মেলেনি। বিচারপতি সাফ জানিয়েছেন, এটা কোনওভাবেই ধর্ষণের ঘটনা নয়। সম্মতিক্রমেই শারীরিক সম্পর্ক হয়ে থাকতে পারে। এব্যাপারে চিকিৎসকের রিপোর্টের কথাও উল্লেখ করেছেন বিচারপতি। তিনি জানিয়েছেন, মেডিক্যাল রিপোর্টে যৌন হেনস্তার উল্লেখ নেই।
বিচারপতি সিং আরও জানান, সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখেছে আদালত। নির্যাতিতা এবং অভিযুক্ত দু’জনই প্রাপ্তবয়স্ক। ওই তরুণী একজন স্নাতকোত্তরের পডুয়া। তাই নৈতিক দায়িত্ব ও নিজের কৃতকর্মের ফলাফল কী হতে পারে, তা বোঝার ক্ষমতা তাঁর রয়েছে। যদি অভিযোগ সত্যিও হয়, তাহলে বলতে হবে যে নির্যাতিতাই নিজেকে বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েছিলেন। ওই ঘটনার জন্য তরুণীই দায়ী। এই পর্যবেক্ষণের পর অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করেছেন বিচারপতি।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন