শ্রীনগর: পহেলগাঁওয়ের বৈসরণ উপত্যকায় পর্যটকদের উপরে হামলা চালাতে জঙ্গিদের সাহায্য করেছিল ‘ঘর শত্রু বিভীষণরা’। কমপক্ষে ১৫ জন কাশ্মীরির সহায়তায় গত মঙ্গলবার, ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওকে রক্তাক্ত করে তোলে সন্ত্রাসবাদীরা। তদন্তে এমনই চাঞ্চল্যকর উঠে এসেছে বলে দাবি এনআইএ তদন্তকারীদের। এই কাশ্মীরি বাসিন্দারাই কাজ করেছিল ওভার গ্রাউন্ড ওয়ার্কার হিসেবে। অর্থাৎ জঙ্গিদের নানা রসদ সরবরাহ করেছিল তারা।
পহেলগাঁওতে হামলার পর বৈদ্যুতিন সামগ্রীর মাধ্যমে নজরদারি
চালাচ্ছিলেন তদন্তকারীরা। তার মাধ্যমেই স্থানীয়দের নাম উঠে আসে। জঙ্গিদের
নানা রসদ জোগানোর পাশাপাশি পাকিস্তানের অস্ত্রশস্ত্রও নিজেদের কাছে রেখেছিল
তারা। ১৫ জন সন্দেহভাজন দক্ষিণ কাশ্মীরের বাসিন্দা। এদের আগে থেকেই ওভার
গ্রাউন্ড ওয়ার্কার হিসেবে চিহ্নিত করেছিল জম্মু ও কাশ্মীর পুলিস। গত কয়েক
বছরে দক্ষিণ কাশ্মীরে একাধিক জঙ্গি হামলায় তাদের নাম উঠে আসে। তবে
পহেলগাঁওয়ের হামলায় এই ১৫ জনের মধ্যে মূল সন্দেহভাজন ৫ জন। তাদের মধ্যে
তিনজনকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি দু’জনের খোঁজ চলছে। হামলার দিন
ও তার আগে বেশ কয়েকদিন ধরে ঘটনাস্থলের আশেপাশে সক্রিয় ছিল তারা। তাদের
একটি চ্যাট উদ্ধার করেছেন গোয়েন্দারা। কীভাবে জঙ্গিদের সাহায্য করা যায়, তা
নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছিল তারা।
বাকি ১০ জনকে আটক করে যৌথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করছে এনআইএ, জম্মু ও কাশ্মীর পুলিস, র-এর গোয়েন্দারা। এই ১০ জন আগেও পাক জঙ্গিদের সাহায্য করেছিল বলে তথ্য পাওয়া গিয়েছে। শনিবার পর্যন্ত আরও ২০০ জন সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। এদের মধ্যে ২০-২৫ জন কাশ্মীরিকে বিশেষভাবে জেরা করার জন্য আটক করা হয়েছে। এরা পাক জঙ্গিদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত বলে জানতে পেরেছেন তদন্তকারীরা। জঙ্গিদের আশ্রয় দেওয়া, দিক নির্দেশ দেওয়ার মতো কাজ করত এরা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন