কলকাতা: বিএড ডিগ্রি নিয়ে প্রাথমিক স্কুলের চাকরিতে নিযুক্ত অন্তত ১০ হাজার শিক্ষককে ছ’মাসের ব্রিজ কোর্স করতেই হবে। সম্প্রতি এমনই ‘ফতোয়া’ জারি করেছে শিক্ষক প্রশিক্ষণের কেন্দ্রীয় নিয়ামক সংস্থা এনসিটিই। ওই শিক্ষকদের চাকরির ভবিষ্যৎ নির্ভর করবে এই কোর্সের উপরেই। প্রসঙ্গত, সুপ্রিম কোর্ট বিএড ডিগ্রিধারী প্রাথমিক শিক্ষকদের চাকরিতে সবুজ সঙ্কেত দিলেও ছ’মাসের এই কোর্স থেকে তাঁদের রেহাই দিচ্ছে না এনসিটিই। ফলে, মাধ্যমিক-উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ডামাডোলের মধ্যে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষকদের জন্য এটা একটা নতুন ঝক্কি। যদিও এনসিটিই জানাচ্ছে, আদালতের রায়ে মান্যতা দিয়েই এই পদক্ষেপ। আর, একজন প্রার্থী একবারই এই কোর্সের সুযোগ পাবেন। অনুত্তীর্ণরা আর সুযোগ পাবেন না। সেক্ষেত্রে তাঁদের নিয়োগও অবৈধ বলে গণ্য হবে।
এর আগে হাজার হাজার শিক্ষককে উচ্চ মাধ্যমিকে ৫০ শতাংশ নম্বর সহ উত্তীর্ণ করার জন্য রবীন্দ্র মুক্ত বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষার ব্যবস্থা করিয়েছিল রাজ্য সরকার। বাম আমলে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ এই ব্যক্তিরাও প্রাথমিক শিক্ষকতার চাকরি পেয়েছিলেন। অনেকে উচ্চ মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হলেও ৫০ শতাংশ ছিল না। এনসিটিই এই শর্তগুলি আরোপ করার পরে দায়িত্ব চাপে পর্ষদের কাঁধে। এরপর আসে ডিএলএড প্রশিক্ষণের বিষয়টি। উচ্চ মাধ্যমিকে ৫০ শতাংশ ন্যূনতম নম্বর সহ পাশ করানোর পরে তাঁদের এই প্রশিক্ষণও দেয় প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। এসবের ডামাডোলে নতুন নিয়োগের বিষয়টি বাধাপ্রাপ্ত হয়। বিএড প্রার্থীদের ছ’মাসের ব্রিজ কোর্স করানোর দায়িত্বও আগে পালন করেছে প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ। এবার অবশ্য সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জাতীয় মুক্ত বিদ্যালয় ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ওপেন স্কুলিং বা এনআইওএসকে।
এ রাজ্যে টেট ২০১৪-এর ভিত্তিতে ২০২১ সালে প্রাথমিকে নিযুক্ত বিএড প্রার্থীদের এবার এই ব্রিজ কোর্স করতে হবে। সেই সংখ্যাটিই ১০ হাজার বলে জানা যাচ্ছে বিভিন্ন সূত্রে। বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির শীর্ষনেতা আনন্দ হান্ডা বলেন, ‘আমাদের হিসেবে এই সংখ্যা ১০ হাজারের কিছু বেশি।’ এনসিটিই এই ব্রিজ কোর্স সম্পর্কে জানিয়েছে, ওপেন অ্যান্ড ডিসট্যান্স লার্নিং বা ওডিএল পদ্ধতিতে এটি চালাতে পারবে এনআইওএস। তবে, তার আগে এর জন্য অনুমোদন নিতে হবে এনআইওএসকে। তাহলে কি এই অনুমোদন এনআইওসের নেই? সংস্থার এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, ব্রিজ কোর্স ওডিএল পদ্ধতিতে চালানোর অনুমোদন বর্তমানে এনআইওএসের নেই। তবে, যেহেতু এরকম কোর্স তারা আগেও চালিয়েছে, তাই নতুন করে অনুমোদন পেতে কোনও সমস্যা হবে না।’

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন