দীঘা: জগতের নাথ বাংলায়— মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন অবশেষে পূরণ হল। সকালে প্রাণ প্রতিষ্ঠা, বিশেষ পূজন। তার কয়েক ঘণ্টা পর, বুধবার বিকেল ৩টে ১০ মিনিটে সৈকতনগরী দীঘায় প্রভু জগন্নাথের নব আলয়ের দ্বারোদ্ঘাটন করলেন মমতা। সর্বসাধারণের জন্য খুলে গেল মন্দিরের দরজা। ভিতরে রত্নবেদিতে অধিষ্ঠিত প্রভু জগন্নাথ, বলরাম দেব ও দেবী সুভদ্রার বিগ্রহের সামনে প্রদীপ আরতি পর্বে দৃশ্যত তৃপ্ত লাগছিল বাংলার মুখ্যমন্ত্রীকে। প্রভুকে দর্শনের জন্য যেন মুখিয়ে ছিল মানুষ। দ্বারোদঘাটনের পর বেলা গড়িয়ে সন্ধ্যা হতে না হতে দর্শনার্থীর সংখ্যা বেড়েছে পাল্লা দিয়ে। এদিন ছিল অক্ষয় তৃতীয়া। বৃহস্পতিবার মে দিবস। ছুটির এই প্যাকেজে তাই এদিন থেকেই ভিড় আছড়ে পড়েছে সৈকতশহরে। আর সেই ভিড়ের একটাই গন্তব্য, নয়া জগন্নাথধাম। এই আবর্তে প্রভুর কৃপা গোটা রাজ্যের মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চান মুখ্যমন্ত্রী। দ্বারোদঘাটন পর্বে তাঁর ঘোষণা, তথ্য-সংস্কৃতি দপ্তরের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে জগন্নাথদেবের প্রসাদ। পৌঁছে দেওয়া হবে দেশের বিশিষ্ট লোকজনের কাছেও। সবমিলিয়ে মহাপ্রভুর আবাহনে দীঘা এখন পুণ্যভূমি!
ধর্মীয় অনুশাসন আর আচার
মেনে এদিন সকালে প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয়েছে জগন্নাথ দেব, বলরাম দেব ও দেবী
সুভদ্রার। রুদ্ধদ্বারে শুরু হয় সেই প্রক্রিয়া। সকাল ১১টা ১০ মিনিট নাগাদ
শুরু হয় বিগ্রহে কুশস্পর্শ। ২০ মিনিট ধরে চলে সেই পর্ব। মহাপ্রভু, বলরাম
দেব ও দেবী সুভদ্রার নিম কাঠের মূর্তিতে প্রাণপ্রতিষ্ঠা করেন রাজেশ
দয়িতাপতির সঙ্গে আসা পুরোহিতরা। পাথরের বিগ্রহের প্রাণ প্রতিষ্ঠা করেছেন
ইসকনের পূজারিরা। একইসঙ্গে প্রাণ প্রতিষ্ঠা হয় রাধাকৃষ্ণের। এরপর হয় স্নান ও
বস্ত্র পরিধান। অর্পণ করা হয় ৫৬ ভোগ। ইসকনের তরফে জগন্নাথদেবের সেবায়েত
মুকুন্দকীর্তন দাস জানান, প্রতিদিন ভোর সাড়ে চারটে থেকে টানা একঘণ্টা ধরে
হবে জগন্নাথদেবের মঙ্গলারতি। এরপর শৃঙ্গার, ভোগ নিবেদন সহ অন্যান্য আচার
পালনের জন্য বন্ধ রাখা হবে মন্দির দ্বার। ভক্ত, পুণ্যার্থীদের জন্য তা ফের
খুলবে সকাল সাড়ে সাতটায়। বেলা ১টা পর্যন্ত দর্শন দেবেন মহাপ্রভু। দুপুর ১টা
থেকে বিকেল চারটে পর্যন্ত মন্দির বন্ধ থাকবে। ফের চারটে থেকে রাত সাড়ে
আটটা পর্যন্ত করা যাবে দেব-দর্শন।
দীঘার জগন্নাথধাম তৈরি হয়েছে
‘সম্পূরা’ ঘরানার শৈলীতে। নির্মাণ কাজে যেমন যুক্ত ছিলেন দেশের সেরা
আর্কিটেক্টরা, তেমনই ছিলেন রাজস্থান থেকে আসা সাড়ে সাতশোর বেশি দক্ষ
কারিগর-শ্রমিক। অনেকেই এর আগে যুক্ত ছিলেন অযোধ্যার রামমন্দির নির্মাণে।
সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ধন্যবাদ জানিয়েছেন নোডাল
এজেন্সি হিডকোকেও। আপ্লুত গলায় বলেছেন, ‘সমুদ্রতটের এই মন্দির তীর্থস্থান
আর পর্যটনস্থল হিসেবে হাজার হাজার বছর ধরে থাকবে। রবি ঠাকুরের কথায় বলি,
সবারে করি আহ্বান!’
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন