নয়াদিল্লি: খাদের কিনারায় দাঁড়ানো
কলকাতা নাইট রাইডার্স পেল সাময়িক স্বস্তি। মঙ্গলবার দিল্লি ক্যাপিটালসের
বিরুদ্ধে কোটলায় এদিনের মরণ-বাঁচন ম্যাচে জয় এল ১৪ রানে। সুনীল নারিনের
জাদুকরী বোলিংই আনল দুই পয়েন্টে। সাত বলের ফারাকে দিল্লির তিন উইকেট নেন
ক্যারিবিয়ান মিস্ট্রি বোলার। সেটাই তফাত গড়ে দেয়। কার্যত, নারিনের
নেতৃত্বেই এল জয়। কারণ, আঙুলে চোট পেয়ে দিল্লির ইনিংসের শেষপর্বে ডাগ আউটে
বসতে বাধ্য হন নাইট ক্যাপ্টেন অজিঙ্কা রাহানে। আর সহ-অধিনায়ক বেঙ্কটেশ
আয়ারের পরিবর্তে ইমপ্যাক্ট প্লেয়ার হিসেবে নেমেছিলেন বৈভব অরোরা। তাই
নারিনই নেতৃত্ব দেন নাইটদের। ১০ ম্যাচে কলকাতার পয়েন্ট দাঁড়াল ৯। প্লে-অফের
আশা জিইয়ে রাখতে গেলে গতবারের চ্যাম্পিয়নদের জিততে হবে বাকি চারটি
ম্যাচই।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ৯ উইকেটে ২০৪ তুলেছিল কলকাতা। জবাবে ৯
উইকেট হারিয়ে দিল্লি থামল ১৯০ রানে। দিল্লির শুরুটা ভালো হয়নি। অভিষেক
পোড়েল (৪), করুণ নায়ার (১৫), লোকেশ রাহুল (৭) রান পাননি। এরমধ্যে সুনীল
নারিনের সরাসরি থ্রোয়ে রান আউট হন লোকেশ। চতুর্থ উইকেটে ফাফ ডু’প্লেসি ও
ক্যাপ্টেন অক্ষর প্যাটেল ৪২ বলে যোগ করেন ৭৬। তখন দিল্লির জেতার সম্ভাবনাই
দেখাচ্ছিল বেশি। কিন্তু ১৪তম ওভারে অক্ষর (২৩ বলে ৪৩) ও ট্রিস্টান স্টাবসকে
(১) ফিরিয়ে নাইটদের ম্যাচে ফেরান নারিন। ১৬তম ওভারে ফের আঘাত হানেন তিনি।
এবার নারিনের শিকার ডু’প্লেসি (৪৫ বলে ৬২)। দশ রানের ব্যবধানে এই তিন
উইকেটই জল ঢালে দিল্লির জয়ের আশায়। ১৮তম ওভার বরুণ চক্রবর্তীও দেন জোড়া
ধাক্কা। ফেরান ‘ইমপ্যাক্ট সাব’ আশুতোষ শর্মা (৭) ও মিচেল স্টার্ককে (০)।
শেষ ওভারে দিল্লির প্রয়োজন ছিল ২৫ রান। বিপরাজ নিগম (১৯ বলে ৩৮) চেষ্টা
করলেও তা যথেষ্ট ছিল না।
চলতি মরশুম জুড়ে ওপেনিং ভুগিয়েছে নাইটদের।
এদিন অবশ্য রহমানুল্লাহ গুরবাজ ও সুনীল নারিন প্রথম উইকেটে ঝড়ের গতিতে শুরু
করেন। গুরবাজকে (১২ বলে ২৬) ফেরান প্রাক্তন নাইট স্টার্ক। কেকেআরের স্কোর
তখন ৪৮। অন্যপ্রান্তে নারিনকেও ছন্দে দেখাচ্ছিল। পাওয়ার প্লে’তে রান ছিল
৭৯-১। নারিনের পাশাপাশি ফর্মে ছিলেন রাহানেও। কিন্তু, দু’জনেই ফেরেন পরপর।
নারিনকে (১৬ বলে ২৭) এলবিডব্লু করেন বিপরাজ নিগম। রাহানেও (১৪ বলে ২৬)
এলবিডব্লু হন, তবে তাঁকে ফেরান অক্ষর প্যাটেল। তবে দুঃসময় অব্যাহত বেঙ্কটেশ
আয়ারের (৫ বলে ৭)। সাত ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ মোটে ১৪২। অক্ষরকে স্লগ সুইপ
মারতে গিয়ে লোপ্পা তোলেন তিনি। ২৩.৭৫ কোটি টাকার ক্রিকেটারকে এবার বসানোর
সময় হয়েছে। ১১৩-৪ হওয়ার পর অঙ্গকৃষ রঘুবংশীর সঙ্গে রিঙ্কু জুটি বাঁধেন।
পঞ্চম উইকেটে দু’জনে ৪৬ বলে যোগ করেন ৬১। কিন্তু পরপর ফেরেন অঙ্গকৃষ (৩২
বলে ৪৪) ও রিঙ্কু (২৫ বলে ৩৬)। স্লগ ওভারেও ওঠেনি ঝড়। শেষ ৪ ওভারে ওঠে
মাত্র ৩৬। তার মধ্যে মিচেল স্টার্কের শেষ ওভারে পড়ে তিন উইকেট।
হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগিয়ে তুলেছিলেন বাঁ-হাতি অজি। একসময় মনে হচ্ছিল
২২০-২২৫ তুলতে চলেছে নাইটরা। কিন্তু আন্দ্রে রাসেলের (৯ বলে ১৭) সৌজন্যে
কোনওরকমে দুশো অতিক্রম করে ইনিংস। বিপক্ষের দুরন্ত ফিল্ডিং বাধা হয়ে ওঠে
নাইটদের। স্টার্কের বলে শরীর ছুড়ে অনুকূল রায়ের ক্যাচ নেন দুষ্মন্ত চামিরা।
প্রতিযোগিতার সেরা ক্যাচের বাছাইয়ে যা থাকতেই পারে। দিল্লির সফলতম বোলার
স্টার্কই (৩-৪৩)। অক্ষর (২-২৭), বিপরাজও (২-৪১) নজর কাড়েন। কুলদীপ যাদব ৩
ওভারে দেন ২৭।
ছবি: স্টার্ককে ঘিরে উচ্ছ্বাস দিল্লির (বাঁ দিকে)। কেকেআরকে টানলেন রঘুবংশী ও রিঙ্কু।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন