মেদিনীপুর: সাঁতরাগাছি স্টেশনে কিছু কাজের জন্য আজ, রবিবার খড়্গপুর-হাওড়া শাখায় প্রচুর ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এরফলে যাত্রীদের ভোগান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে। লোকাল ও এক্সপ্রেস মিলিয়ে প্রায় ৩৬টি ট্রেন বাতিল থাকছে বলে রেল সূত্রে জানা গিয়েছে। খড়্গপুর ডিভিশনের সিনিয়র ডিসিএম নিশান্ত কুমার বলেন, কিছু ট্রেন বাতিল হয়েছে। যাত্রীদের সুবিধার জন্য বিজ্ঞপ্তি সোশ্যাল মিডিয়া সহ বিভিন্নভাবে প্রচার করা হয়েছে।
১৮মে-র পর ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়ে যাবে। যদিও এই শাখার যাত্রীরা জানাচ্ছেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ট্রেন চলাচল করে না। এরফলে পর্যটক ও নিত্যযাত্রীদের নানা সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। রেল সূত্রে জানানো হয়েছে, সাঁতরাগাছি স্টেশনে আধুনিকীকরণ ও নন ইন্টারলকিংয়ের কাজ চলছে। গত ৩০এপ্রিল থেকে কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ১৮মে পর্যন্ত দুই শতাধিক লোকাল, দূরপাল্লার ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া বেশকিছু ট্রেনের যাত্রাপথও পরিবর্তন করা হচ্ছে। কিছু ট্রেনের যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। গত ৩মে ২১টি, ৭মে ১৯টি ট্রেন বাতিল হয়েছে।
আজ, রবিবার লোকাল ও এক্সপ্রেস মিলিয়ে ৩৬টি ট্রেন বাতিল থাকছে। তারমধ্যে বেশকিছু হাওড়া-পাঁশকুড়া, হাওড়া-মেদিনীপুর লোকাল রয়েছে। হাওড়া-দীঘা কাণ্ডারী এক্সপ্রেস ও দীঘা-হাওড়া তাম্রলিপ্ত এক্সপ্রেসও বাতিল থাকছে। পুরী-হাওড়া শতাব্দী এক্সপ্রেসও বাতিলের তালিকায় রয়েছে। আগামী ১৮মে ৩২টি লোকাল ট্রেন বাতিল করা হবে। তবে অন্যান্য দিন লোকাল ট্রেনের পরিষেবা স্বাভাবিক থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
দক্ষিণ পূর্ব রেলের খড়্গপুর ডিভিশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সারাদিন এই শাখায় অসংখ্য লোকাল ও এক্সপ্রেস ট্রেন চলাচল করে। এই লাইনের মাধ্যমে ওড়িশা সহ একাধিক রাজ্যের সঙ্গে যোগ রয়েছে। দীঘা, ঝাড়গ্রাম সহ বেশকিছু পর্যটন কেন্দ্রেও নিয়মিত পর্যটকরা আসেন। ট্রেনই লক্ষ লক্ষ মানুষের ভরসা। মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা পঙ্কজ দে বলেন, রেলের কাজের জন্য মাঝেমধ্যে ট্রেন বাতিল হওয়ায় খুবই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তবে শুধু কাজের জন্য নয়, এই শাখায় সারা বছরই ট্রেনের সমস্যা থাকে। কোনও ট্রেন সময়মতো গন্তব্য পৌঁছয় না। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় রোগী ও রোগীর পরিজনদের।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বিপুল পরিমাণে ট্রেন বাতিলের
ফলে ঝাড়গ্রাম জেলায় পর্যটন ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। একইসঙ্গে
খড়্গপুর-মেদিনীপুর শহরের ব্যবসায়ীদেরও সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেকেই
বাড়তি খরচ করে সড়কপথে যাতায়াত করছেন। মেদিনীপুরের ব্যবসায়ী রাহুল দাস
বলেন, সকলের পক্ষে বেশি টাকা খরচ করে গাড়িতে যাতায়াত সম্ভব নয়। মানুষের
সুবিধার্থে রেল স্বাভাবিক পরিষেবা দিক।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন