নয়াদিল্লি: যুদ্ধবিরতি? মাথানত করল পাকিস্তান? না! মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতাই সার। ফোন করে যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ করার ঘণ্টাতিনেকের মধ্যেই পাল্টি খেল ইসলামাবাদ। শনিবার সন্ধ্যা হতে না হতে ফের স্বমহিমায় গোলাবর্ষণ শুরু পাকিস্তানি সেনার। শ্রীনগরে লাগাতার বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর আখনুর এবং রাজৌরিতে চলে ভারী শেলিং এবং ড্রোন হামলা। ‘দ্বিচারী’ পাকিস্তানের আক্রমণের হাত থেকে বাদ যায়নি জম্মুর আরএস পুরা, নাগরোটাও। রাতে নাগরোটার সেনা ছাউনির কাছে এক সন্দেহভাজন জঙ্গির সঙ্গে গুলির লড়াইয়ে জখম হন এক জওয়ান। পলাতক জঙ্গির খোঁজে চলছে তল্লাশি। হাই অ্যালার্ট জারি হয় পাঞ্জাব, হরিয়ানা, রাজস্থানে।
এমনকী গুজরাতেও পাক ড্রোনের দেখা মেলে। প্রতি ক্ষেত্রেই যোগ্য জবাব দিয়েছে ভারত। যাবতীয় হামলা প্রতিহত করেছে ভারতীয় এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম। জানা গিয়েছে, ১৫তম কোর ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরেও (চিনার কোর) ড্রোন আক্রমণ হয়। সেগুলিও সফলভাবে ইন্টারসেপ্ট করা হয়। কার্গিল যুদ্ধের সময়ও এমন ঘটনা দেখা গিয়েছিল। শনিবার রাত ১১টায় সাংবাদিক বৈঠক করে পাকিস্তানের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের খবর নিশ্চিত করেছেন বিদেশ সচিব বিক্রম মিস্রি। জানিয়েছেন, বিষয়টি অত্যন্ত নিন্দনীয়। সেনাকে সংযত রাখতে উপযুক্ত পদক্ষেপ নিক পাকিস্তান। নাহলে কড়া ব্যবস্থা নেব। তাঁর হুঁশিয়ারি—ভারতীয় সেনাকে পরিস্থিতির দিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। আর যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘিত হলে কঠোর প্রত্যাঘাত।
শুক্রবার সন্ধ্যা
থেকে ভারতের ২৬টি জনপদ লক্ষ্য করে মিসাইল ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছিল
পাকিস্তান। রাতের মধ্যেই জবাব দেয় নয়াদিল্লি। ভারতীয় ড্রোন ও মিসাইলের
প্রত্যাঘাতে ধ্বংস হয়ে যায় ইসলামাবাদের আটটি বায়ুসেনা ঘাঁটি। এরপরই শনিবার
সকাল সাড়ে ৭টায় ন্যাশনাল কমান্ড অথরিটির সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়ে
কার্যত পরমাণু অস্ত্র ব্যবহারেই পরোক্ষ হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন পাকিস্তানের
প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। কিন্তু বিকেলেই হঠাৎ বদলে যায় পরিস্থিতি।
নজিরবিহীনভাবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ‘অত্যন্ত খুশি
হয়ে জানাচ্ছি, দুই দেশের সঙ্গেই আলোচনা করে আমেরিকার মধ্যস্থতার পর
সিদ্ধান্ত হয়েছে ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে রাজি।’
এরপরই ভারত সরকারিভাবে জানায়, এদিন বিকেল ৩ টে ৩৫ মিনিটে ভারতের ডিরেক্টর জেনারেল অব মিলিটারি অপারেশনস (ডিজিএমও)-কে ফোন করেন পাকিস্তানের ডিজিএমও। বলেন, যুদ্ধবিরতি চাই! আর কোনও অস্ত্র ব্যবহার করব না। স্থির হয়েছে শনিবার বিকেল ৫টা থেকে সবরকম আগ্রাসন থেকে দুই দেশই সরে আসবে। অর্থাৎ যুদ্ধবিরতি। ১২ মে পুনরায় দু’দেশের সেনাস্তরে কথা হবে। কিছুক্ষণের মধ্যেই ৭২ ঘণ্টা ধরে যুদ্ধং দেহি মনোভাব দেখানো পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী ইশাক দারের নরম ঘোষণা, ‘পাকিস্তান তো সর্বদাই শান্তির পক্ষে!’
যদিও সেই সব ছিল নিছক
বিবৃতি। কারণ, ইশাক দারের ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সীমান্তের ওপার থেকে
শুরু হয় লাগাতার শেলিং। শ্রীনগরেও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে বলে এক্স
হ্যান্ডলে জানান জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা। ক্ষুব্ধ ওমর
পরে লেখেন, ‘এটাকে যুদ্ধবিরতি বলে না।’ শ্রীনগরে ফের ব্ল্যাক আউট করা
হয়েছে। জম্মুর সাম্বা এলাকাতেও ড্রোন হামলার খবর মিলেছে। বারামুলায় একটি
ড্রোনকে গুলি করে নামানো হয়। যদিও একটি সূত্র জানাচ্ছে, সেগুলিতে কোনও
অস্ত্র ছিল না। সেনার এক পদস্থ আধিকারিক বলেন, আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতি
ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এ জাতীয় আচরণ একেবারেই কাঙ্ক্ষিত নয়। আমরা
যোগ্য জবাব দিচ্ছি। শুধু জম্মু-কাশ্মীরই নয়, পাঞ্জাবের গুরুদাসপুর,
ফিরোজপুর, পাঠানকোট, হোশিয়ারপুর, জলন্ধর ও ফরিদকোটে ড্রোন হামলা হয়েছে।
যুদ্ধবিরতি
ঘোষণার পরেই প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর,
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল ও তিন বাহিনীর প্রধানকে নিয়ে বৈঠক
করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সরকারি সূত্রে জানা যাচ্ছে, আপাতত
সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত থেকে যাবতীয় বাণিজ্য ও দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক
স্তব্ধই থাকবে। ভারত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আগামী দিনে যে কোনও আগ্রাসী
আক্রমণকে যুদ্ধ হিসেবেই বিবেচনা করা হবে। এবং পূর্ণশক্তিতে জবাবও দেবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন