কলকাতা: প্রত্যাঘাতে থরহরিকম্প পাকিস্তান। একের পর এক সেনাঘাঁটি বিপর্যস্ত, ত্রাহি ত্রাহি রব! ঠিক তখনই রুটিন করে ভারতবিরোধী মিথ্যাচারে ব্যস্ত থাকছিলেন পাকিস্তান সেনার মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী। কখনও গুলি করে রাফাল নামানো, আবার কখনও ব্রহ্মস ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডার উড়িয়ে দেওয়ার মতো আকাশকুসুম গল্পের রূপকার এই সেনাকর্তাই। পাক সেনার ‘ইন্টার সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশনস’ (আইএসপিআর)-এর ডিরেক্টর জেনারেল এহেন শরিফ চৌধুরীর ‘জঙ্গি’ যোগ সামনে আসায় গোটা বিশ্বের দরবারে কার্যত মুখ পুড়েছে শাহবাজ শরিফ সরকারের। পাক সেনার এই ডিজি’র (আইএসপিআর) বাবা ওসামা বিন লাদেন ঘনিষ্ঠ আল কায়েদা জঙ্গি তথা পরমাণু বিজ্ঞানী সুলতান বসিরউদ্দিন মাহমুদ। ২৬/১১ পর্বে আল কায়েদার সঙ্গে সংস্রবের দায়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল মার্কিন প্রশাসন।
অভিযোগ, পরমাণু বোমা তৈরির জন্য আল কায়েদাকে
প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছিলেন সুলতান। মার্কিন গোয়েন্দারা জেনেছেন, ২০০১
সালের মাঝামাঝি সময়ে আফগানিস্তানের কান্দাহারের গোপন ঘাঁটিতে গিয়ে তালিবান
ও আল কায়েদার তিন শীর্ষ নেতা ওসামা বিন লাদেন, মোল্লা ওমর এবং আয়মান আল
জাওয়াহিরির সঙ্গে দেখাও করেন পাক সেনা কর্তার বাবা। এমনকী তালিবান পর্বে
অর্থ সাহায্যের জন্য উম্মা-তামিরে-নাও (ইউটিএন) নামে একটি সংস্থা তৈরি করে
কাবুলে দপ্তরও খুলেছিলেন।
রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ সন্ত্রাসবাদী তালিকাভুক্ত করে সুলতানকে ‘স্পেশ্যালি ডেজিগনেটেড গ্লোবাল টেররিস্ট’ হিসেবে চিহ্নিত করে। নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল ইউটিএন’কেও। ২৬/১১’র পর তালিবান ও আল কায়েদা নেতাদের সঙ্গেই ওয়াজির আকবর খান সেফ হাউস থেকে ইউটিএন-এর ঝাঁপ বন্ধ করে গা-ঢাকা দিয়েছিলেন পাক সেনা কর্তার বাবা। পাক সেনার মদতেই জঙ্গিরা যে সে দেশে সম্মানের সঙ্গে ‘লালিত’ হয়, তার প্রমাণও মেলে পরে। পাকিস্তান অ্যাটমিক এনার্জি কমিশনের উচ্চপদে আসীন হন সুলতান বসিরউদ্দিন। সেই সঙ্গে তাঁকে সেদেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ অসামরিক উপাধি ‘সিতারা-ই-ইমতিয়াজ’এও ভূষিত করা হয়।
ভারতীয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য,
দেশভাগের আগে পাঞ্জাবের অমৃতসরে জন্ম সুলতানের। যদিও পাকিস্তানে বসবাসের পর
থেকে কট্টর ভারত বিরোধী বলে পরিচিত হন এই পরমাণু বিজ্ঞানী। তাঁর পুত্র,
পাক সেনা কর্তা আহমেদ শরিফ চৌধুরীও একই পথের পথিক। গোয়েন্দা সূত্রের খবর,
পাক সেনার ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কর্পসে
থাকাকালীনই জয়েশ-ই-মহম্মদ, লস্কর-ই-তোইবা এবং হরকত উল জিহাদের মতো
সন্ত্রাসবাদী সংগঠনের সঙ্গে দারুণ সখ্য গড়ে ওঠে শরিফ চৌধুরীর। কার্যত সেনার
সঙ্গে জঙ্গি সংগঠনগুলির সঙ্গে ‘সমন্বয়’ রক্ষার কাজ করতেন।
সূত্রের খবর, পহেলগাঁওয়ের ঘটনার পর মাসুদ আজহার এবং তার কয়েকজন সহযোগীকে ‘সেফ হাউসে’ লুকিয়ে রেখার বিষয়টিও এই পাক সেনা কর্তার তত্ত্বাবধানে হয়েছে। কট্টর ভারত বিরোধী এহেন শরিফ চৌধুরীকে দিয়েই গত কয়েকদিন ধরে বিশ্বের দরবারে পাকিস্তানের ইমেজ বিল্ডিং আর মিথ্যাচার চালিয়ে গিয়েছে শাহবাজ সরকার।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন