নয়াদিল্লি: নরেন্দ্র মোদি। ইঙ্গিত করেন বাঁদিকে। আর হাঁটেন ডানদিকে। তাঁর পরের চাল কী? তা বুঝতে গিয়েই বারবার গোলকধাঁধায় হারিয়ে বোকা বনে যায় পাকিস্তান। আর সুযোগ বুঝে শত্রুর ঘরে ঢুকে জঙ্গিদের আঁতুড়ঘর ধ্বংস করে দিয়ে আসেন তিনি। ২০১৯ সালের বালাকোট অভিযান হোক বা মঙ্গলবার গভীররাতের অপারেশন সিন্দুর।
শত্রুপক্ষ টের পাওয়ার আগেই একের পর এক সফল অভিযান যেন সেটাই স্পষ্ট করে দিয়েছে। মজার বিষয়টি হল দুই অভিযানের আগের প্রেক্ষাপট ও ঘটনাক্রম প্রায় একইরকম। কিন্তু তাও কিছুই বুঝে উঠতে পারেনি পাকিস্তান। হামলার পর হয়তো হুঁশ ফিরেছে। কিন্তু তখন হাত কামড়ানো ছাড়া আর কোনও উপায় নেই।
সালটা ২০১৯। ২৬ ফেব্রুয়ারি, মঙ্গলবার।
পুলওয়ামা কাণ্ডের প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তানের বালাকোটে প্রত্যাঘাত করে ভারত।
পহেলগাঁও হামলার বদলা নিতে কাকতালীয়ভাবে আর এক মঙ্গলবার পাকিস্তানে ঢুকে
হামলা চালানো হল। সেবার হামলার আগে ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালের উদ্বোধনে যোগ
দিয়েছিলেন মোদি। ভাষণ দিয়েছেন অথচ একবারও আঁচ পেতে দেননি কী হতে চলেছে।
মুখে কোথাও চিন্তার লেশ মাত্র ছিল না।
অথচ হামলার সবুজ সঙ্কেত দিয়ে দিয়েছেন। আর এবারও এক সামিটে যোগ দিতে দেখা যায় তাঁকে। দু’বারই দেশবাসীর উদ্দেশে ভাষণ দেন। খুব শান্ত, সাধারণ ছন্দে তাঁর বক্তব্যে সেনার বীরত্বের কথা, দেশের উন্নয়ন, সন্ত্রাসবাদ দমনের কথা উঠে আসে। কিন্তু কোথাও ঘুণাক্ষরেও হামলার আভাস পাওয়া যায়নি। যেন আর পাঁচটা দিনের মতো সব স্বাভাবিক রয়েছে। পাকিস্তান হয়তো ভারতে মকড্রিলের প্রস্তুতির খবর পেয়ে দিব্যি ঘুমিয়ে পড়েছিল। বুঝতেই পারেনি কয়েক ঘণ্টার ফেরে লাগাতার হামলা সব তছনছ করে দেবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন