দক্ষিণ ২৪ পরগনা: আইসক্রিম, কেক অথবা চকলেট—ভ্যানিলা এসেন্স ব্যবহার করে সেগুলি লোভনীয় করে তোলে বিভিন্ন প্রস্তুতকারক সংস্থা। ভ্যানিলা ফ্লেভারযুক্ত অন্যান্য খাবারের চাহিদাও কম নয়। কিন্তু ভ্যানিলা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কৃত্রিম উপায়ে তৈরি অথবা বাইরে থেকে আমদানি করা হয়। এবার কৃত্রিম উপকরণের উপর নির্ভরতা কমাতে রাজ্য সরকার ভ্যানিলা গাছের চাষ শুরু করেছে। ফলে ভবিষ্যতে রাজ্যেই ভ্যানিলা উৎপাদন সম্ভব হবে, আমদানি করার প্রবণতা কমবে। পঞ্চায়েত দপ্তরের অধীনস্থ ওয়েস্ট বেঙ্গল কম্প্রেহেনসিভ এরিয়া ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশনের (সিএডিসি) উদ্যোগে রাজ্যের পাঁচ জায়গায় চাষ শুরু হয়েছে। প্রয়াস সফল হলে ভবিষ্যতে অন্যান্য চাষি এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদেরও এই কাজে উৎসাহিত করা হবে। বর্তমানে দক্ষিণ ভারতের কিছু রাজ্যে ভ্যানিলা চাষ হয় বলে খবর।
জানা গিয়েছে, অসম থেকে চারা এনে কোচবিহার,
শিলিগুড়ি, হরিণঘাটা, পুরুলিয়া এবং কালনায় রোপণ করা হয়েছে। বর্তমানে
সবেমাত্র ফুল ধরেছে। এই বছরের শেষে অথবা আগামী বছরের গোড়ার দিকে ভ্যানিলার
উপকরণ সংগ্রহ করা যাবে। আধিকারিকদের মতে, গাছ বড় হলে তাতে বিনস জাতীয়
লম্বা ধরণের ফল ধরবে। এই ফলের ভিতরে থাকা বীজ সংগ্রহ, শুকনো করা এবং
প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে ভ্যানিলা এসেন্স তৈরি করা হবে। যা পরবর্তীতে
ব্যবহার হবে খাদ্যদ্রব্যে। সিএডিসি কর্তৃপক্ষের দাবি, বর্তমান বাজারে
ভ্যানিলা এসেন্সের চাহিদা যথেষ্ট বেশি।
বিশেষ করে আইসক্রিম কোম্পানিগুলি এই দ্রব্য খুব ব্যবহার করে। রাজ্যে পুরোদমে চাষ শুরু হলে, ওই সমস্ত সংস্থা এবং কারখানায় ভ্যানিলা এসেন্স সরবরাহ করতে সক্ষম হবে সিএডিসি। কেন হঠাৎ আমেরিকা, মেক্সিকোর এই ভ্যানিলা গাছ বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হল? একজন শীর্ষ আধিকারিক জানিয়েছেন, বর্তমানে নিত্যনতুন চাষের প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে। তাই রাজ্যে সচরাচর চাষ না হওয়া ফল বা গাছ চাষের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন