ঢাকা: অক্ষয় তৃতীয়ার দিন রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় জামিন পেয়েছিলেন হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণদাস। গত সপ্তাহে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণদাসের জামিন মঞ্জুর করে সেদেশের হাইকোর্ট। বিচারপতি মহম্মদ আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি মহম্মদ আলি রেজার বেঞ্চ সেই আদেশ দেয়। কিন্তু তাঁর জেলমুক্তি হয়নি। তার মাঝেই অন্য একটি মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে চিন্ময় কৃষ্ণদাসকে। গত বছরের নভেম্বর মাসে চিন্ময় কৃষ্ণের জামিনের মামলাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে ব্যাপক অশান্তি হয়। সেই অশান্তি হিংসাত্মক রূপও নিয়েছিল। সেই হিংসার জেরে মৃত্যু হয় আইনজীবী সাইফুল ইসলামের। অভিযোগ, আদালত চত্বরেই তাঁকে কুপিয়ে এবং পিটিয়ে খুন করা হয়। সেই ঘটনাতেই চিন্ময় কৃষ্ণকে গ্রেপ্তারির নির্দেশ দিয়েছে চট্টগ্রাম আদালত।
আজ, সোমবার তাঁকে ‘শোন অ্যারেস্টের’ নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি। এই বিষয়ে সংবাদমাধ্যমকে বাংলাদেশ পুলিসের এক উচ্চপদস্থ কর্তা জানিয়েছেন, কারাগারে থাকা চিন্ময় কৃষ্ণদাসকে কোতোয়ালি থানার হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আর্জি জানিয়ে মামলা দায়ের করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। সেই মামলার শুনানি শেষে আদালত আইনজীবী সাইফুল ইসলামের হত্যা মামলায় চিন্ময় কৃষ্ণদাসকে গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দেন। তারপরেই তাঁকে ফের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাই জেলেই আপাতত থাকতে হবে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্রকে। এদিন এই মামলার শুনানিতে চিন্ময় কৃষ্ণদাসের তরফে আদালতে কোনও আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। বাংলাদেশে মহম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হওয়ার পরে মুক্তি দেওয়া হয়েছে একাধিক জঙ্গি নেতাকে।
এমনকী ফাঁসির সাজাপ্রাপ্ত আসামীদেরও ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। উল্টোদিকে, হাসিনা জমানার পতনের পরে ‘অত্যাচারিত সংখ্যালঘু হিন্দুদের পাশে দাঁড়ানোয়’ জেলে যেতে হয়েছিল বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময়কে। কথিত ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’-এর অভিযোগ করে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। একাধিকবার আবেদন করেও জামিন মেলেনি এই হিন্দু ধর্মীয় নেতার। মূলত ক্ষমতাসীন শিবিরের আইনজীবীদের বাধার জেরে বার বার নাকচ হয়ে গিয়েছে তাঁর জামিনের আর্জি। জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে গত বছরের ৩১ অক্টোবর চিন্ময় কৃষ্ণদাস ব্রহ্মচারীসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম শহরের কোতোয়ালি থানায় রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা দায়ের হয়। সেই মামলাতেই গ্রেপ্তার হয়েছিলেন চিন্ময়। তারপরে গত সপ্তাহে সেই মামলায় জামিন পেলেও নতুন আবার একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে জেলেই রেখে দিল ইউনুস সরকার।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন