বর্ধমান: গরমের ছুটিতে বাঙালিদের অনেকেরই ইচ্ছে ছিল কাশ্মীর ঘুরতে যাওয়ার। সেই মতো অনেক আগে থেকে তাঁরা প্ল্যান তৈরি করছিলেন। কাশ্মীর থেকে লে, লাদাখেও যাওয়ারও পরিকল্পনা সেরে ফেলেছিলেন। কিন্তু পেহেলগাঁওয়ে পাক জঙ্গিদের হাড়হিম করা গণহত্যা, তার ঠিক ১৪ দিন পর অপারেশন সিন্দুর—বানচাল করে দেয় সবকিছুই। পশ্চিমের জোড়া ধাক্কার কাঁপুনি পূবেও। ফলে, হিমাচলপ্রদেশ বা সিকিমও এখন আর অনেকেই যেতে চাইছেন না। তা হলে কি মাঠে মারা পড়বে পুরো গরমের ছুটি? মানবে কেন পায়ের তলায় সর্ষে থাকা বাঙালি!
অতঃপর, ডেস্টিনেশন দীঘা। পূর্ব
মেদিনীপুর জেলার এই সমুদ্র সৈকত বাঙালির কাছে বরাবরই প্রিয়। এবার বাড়তি
আকর্ষণ অপূর্ব স্থাপত্যের জগন্নাথ মন্দির। নতুন পরিচয় তীর্থভূমি। এক ঢিলে
দুই পাখি মারতে ভয়ঙ্কর ভূস্বর্গ, সুন্দরী সিকিম ছেড়ে অনেকেই ছুটছেন দীঘা।
তাতে কিছুটা হলেও ক্ষতি পুষিয়ে নিচ্ছে বর্ধমান জেলার ট্রাভেল এজেন্সিগুলি।
লক্ষ্মীলাভ বেড়েছে সরকারি, বেসরকারি পরিবহণ ব্যবসায়ও। এজেন্সি কর্তাদের
দাবি, দীঘা অপেক্ষাকৃত নিরাপদ জায়গা। এখানে হামলা হওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ।
তার উপর ঘোরার খরচ কম। সামর্থ্যের মধ্যে দীঘা, মন্দারমণি, জুনপুট, তাজপুর
ঘোরা হয়ে যাবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৌজন্যে প্রভু
জগন্নাথদেবের দর্শন। মন্দিরের স্থাপত্য ঘুরে দেখা। পর্যটকদের মন টানতে
বিজ্ঞাপনের ক্যাচলাইনও রাতারাতি বদলে ফেলেছেন এজেন্টরা—‘চলুন ঘুরে আসি
বাংলার জগন্নাথধাম।’
বর্ধমানের ট্যুর এজেন্সি রয়েছে সুজন নন্দীর। তিনি
বলেন, এই সময় অনকেই কাশ্মীর, হিমাচলপ্রদেশ ঘুরতে যাওয়ার জন্য বুক করেছিলেন।
তাঁরা ট্যুর বাতিল করছেন। এখন কাছেপিঠে আকর্ষণীয় জায়গা হয়ে উঠেছে দীঘা। কম
টাকা খরচ করে অনেকে যেতে চাইছেন। আর এক এজেন্সির মালিক বলেন, আমরা বেশির
ভাগ সময় কাশ্মীর, সিকিম, নেপাল ট্যুর করি। কিন্তু এই পরিস্থিতিতে সেখানে
পর্যটকরা যেতে চাইছেন না। দীঘার জগন্নাথ মন্দিরকে সামনে রেখে আকর্ষণীয়
প্যাকেজ তৈরি করা হয়েছে। অনেকেই তা গ্রহণ করছেন। গরমের ছুটিতে বাড়ির সকলে
মিলে যেতে চাইছেন। জগন্নাথদেবের মন্দির হওয়ার পর দীঘায় ভিড় আগের তুলনায়
অনেক বেড়ে গিয়েছে।
বর্ধমানের নামী একটি বেসরকারি স্কুলে ছেলেকে পড়ান
সঞ্জীব চট্টোপধ্যায়। তিনি বলেন, গরমের ছুটিতে ভেবেছিলাম কিছুদিন সিকিমের
অফবিটে গিয়ে কাটিয়ে আসব। এই পরিস্থিতে আর সেখানে পরিবার নিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি
নিচ্ছি না। তার বদলে কয়েক দিনের জন্য দীঘায় যাব। জগন্নাথদেবের মন্দির দর্শন
করার পাশাপাশি সমুদ্র সৈকতগুলি ঘুরে আসব। আমরা সব সময় ট্রাভেল এজেন্সির
মাধ্যমে হোটেল, গাড়ি বুক করি। এবারও তেমনটাই করব। শহরের আরেক বাসিন্দা
বলেন, দীঘায় মন্দির উদ্বাধন হওয়ার পর থেকেই উৎসাহিত ছিলাম। ছেলের স্কুল
ছুটির পর সেখানে গিয়ে কিছুদিন কাটিয়ে আসব। নিশ্চিন্তে সময় কাটানো যাবে।
অন্য কোথাও ঘুরতে গেলে এই পরিস্থিতিতে মানসিক চাপ তৈরি হতো।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন