লাউ পরিবারের অত্যন্ত পুষ্টিকর সদস্য পটল। ভারতে সব্জিটি মূলত পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলে চাষ করা হয়। দেখতে অতি সাধারণ সব্জিটির গুণ অনেক।
• ওজন কমাতে সহায়ক: পটলে ক্যালোরির পরিমাণ খুব কম। খাদ্য তন্তু বা ডায়েটরি ফাইবার বেশি। তাই সামান্য মাত্রায় পটল খেলেও তা পেট ভর্তি থাকার অনুভূতি দেয় ও উলটোপাল্টা খাবার খাওয়া থেকে রক্ষা করে। এর ফলে মাত্রাতিরিক্ত খাদ্য খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা যায়। তাই ওজনও থাকে নিয়ন্ত্রণে।
• কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়: পটলে প্রচুর পরিমাণে ডায়েটারি ফাইবার থাকে। ডায়েটরি ফাইবার জল ধরে রাখে, মলের মাত্রা বাড়ায়। ফলে একদিকে যেমন ডায়েটরি ফাইবার হজমক্ষমতাকে উন্নত করে তেমনই কোষ্ঠকাঠিন্যও দূর করতে সাহায্য করে।
• রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: পটলে ভিটামিন সি, বি ভিটামিনের অনেকটা অংশ, ম্যাগনেশিয়াম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে।
• রক্তে শর্করার নিয়ন্ত্রণ: পটলে ক্যালোরির মাত্রা অত্যন্ত কম। পাশাপাশি প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে। ফলে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা চট করে বাড়ে না। ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে সহায়তা মেলে। ডায়াবেটিস রোগীরা তাই নিশ্চিন্তে পটল খেতে পারেন।
• হজমের উন্নতি: পটলে থাকা ফাইবার হজম প্রক্রিয়াকে সঠিক রাখতে সাহায্য করে। একইসঙ্গে গ্যাস, অম্বল ইত্যাদি সমস্যাও দূরে রাখতে পারে।
• ত্বকের স্বাস্থ্য: পটলে ভিটামিন এ, সি এবং ই থাকে যা ত্বককে সুস্থ ও উজ্জ্বল রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত পাতে পটল রাখলে ত্বকের অকাল বার্ধক্য রোধ হয়।
• কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ: কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে পটল রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে এবং ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
• ঠান্ডা ও ফ্লু প্রতিরোধ: পটলে ভিটামিন সি থাকার কারণে এটি সাধারণ ঠান্ডা ও ফ্লুয়ের মতো সংক্রমণ থেকে শরীরকে রক্ষা করতে পারে।
• লিভারের স্বাস্থ্য: পটল লিভারের কার্যকারিতা উন্নত করতে এবং জন্ডিসের মতো রোগের চিকিৎসায় সাহায্য করতে পারে।
* অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট: আছে একাধিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ফলে শরীরে নানা ক্ষতিকর পদার্থ তৈরি হলে তার মাত্রা কমাতে সাহায্য করে পটল। এছাড়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্টপূর্ণ যে কোনও খাদ্য শরীরে তারুণ্য ধরে রাখতেও সাহায্য করে।
পটলের পাশাপাশি পটলের শাকও অত্যন্ত পুষ্টিকর। পটল শাককে কিছু এলাকায় পলতা পাতা বলা হয়। সাধারণত পটলের লতানো ডগা ও পাতা বোঝায়, যা কিছু অঞ্চলে সবজি হিসেবে খাওয়া হয়। এই শাকের স্বাদ হালকা তেতো এবং ভাজা বা অন্যান্য সব্জির সঙ্গে মিশিয়ে রান্না করা হয়। পটলের শাকেরও রয়েছে উপকারিতা।
এই শাকেও রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার যা হজম ক্ষমতা বাড়ায়ও কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে। এই শাকেও আছে একাধিক ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ। এছাড়া আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য যা শরীরকে ফ্রি র্যাডিক্যালস-এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। ফলে নিয়মিত পাতে পটল ও পটলের পাতা রেখে খাওয়া যেতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন