রায়গঞ্জ: সময়ের আগেই এবার আগমন শুরু পরিযায়ী পাখিদের। জুন মাসের আগে যে দেশি বিদেশী পরিযায়ী পাখিদের দেখাই যেত না, এবার এপ্রিল মাসের শেষের দিকেই রায়গঞ্জের কুলিক পক্ষীনিবাস সহ সংলগ্ন এলাকায় হাজির তারা। ঝাঁকে ঝাঁকে পরিযায়ী আসতে শুরু করেছে। আর এই আগাম আগমনকে রায়গঞ্জের জন্য ইতিবাচক সংকেত বলেই মনে করছেন প্রকৃতিপ্রেমীরা। ইতিমধ্যে লিটল কর্মরান্ট, ইগ্রেটস প্রজাতির পক্ষীকুলকে জারুল সহ বিভিন্ন গাছে বাসা বাঁধতে দেখা যাচ্ছে। বনদপ্তরের তরফে রায়গঞ্জের ডিএফও ভূপেন বিশ্বকর্মা বলেন, কুলিক পক্ষীনিবাসের অন্দরে ক্যানেলের জল পর্যাপ্ত পরিমাণে ধরে রাখা, যথা সময়ে পক্ষীখাদ্যের সরবরাহ করা সহ একাধিক কারণে নির্ধারিত সময়ের আগে পরিযায়ী পাখিদের আসা শুরু হয়েছে। পরিবেশপ্রেমীদের নজরেও বিষয়টি এসেছে।
মূলত ইগ্রেটস, কর্মর্যান্ট
প্রজাতি আপাতত আসতে শুরু করেছে। তবে এখনও দেখা নেই ওপেন বিল স্টর্ক, নাইট
হেরনের। রাজ্য তথা দেশের পক্ষীপ্রেমী পর্যটকদের কাছে অন্যতম দ্রষ্টব্যস্থান
এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম পক্ষীনিবাস কুলিক। পক্ষীকূলকে ভালোবাসেন এমন
মানুষজন অবসর পেলেই বছরের নির্দিষ্ট কয়েকমাস ঢুঁ মারেন এখানে। এখানকার
হাজার হাজার দেশি বিদেশী পরিযায়ী পাখির কলতান মানুষের মনকে ভালো করে দেয়।
সেই পাখিই এবার সময়ের আগে হাজির রায়গঞ্জে।
প্রকৃতিপ্রেমীদের কথায়, শুধু
কুলিক পক্ষীনিবাসেই নয়, রায়গঞ্জ শহরের মিলনপাড়া সহ একাধিক জায়গায়
পরিযায়ীরা বাসা বাঁধতে শুরু করেছে গাছে গাছে। উত্তর দিনাজপুর পিপলস ফর
অ্যানিম্যালসের সম্পাদক গৌতম তান্তিয়া বলেন, এ বছর এপ্রিল মাসে আগাম
বৃষ্টির জন্য সময়ের একটু আগেভাগেই দেশি বিদেশী পরিযায়ী হাজির হয়েছে বলে মনে
করা হচ্ছে।
পক্ষীপ্রেমীদের সংযোজন, মূলত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে
ইগ্রেটস, কর্মর্যান্ট প্রজাতি রায়গঞ্জে আসে। তবে সেটা মে মাসের শেষ ও
জুনের শুরুর দিকে। এছাড়াও ওপেন বিল স্টর্ক, নাইট হেরন প্রজাতির পাখি আসে।
যার মধ্যে সব থেকে বেশি সংখ্যায় আসে ওপেন বিল স্টর্ক।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন